বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের স্থানীয় সরকার বিভাগের বরখাস্ত ও শোকজের আদেশ বহাল রেখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের যৌথ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল শেখ মো: মোরশেদ শুনানিতে অংশ নেন।
পাবলিক পরীক্ষা আইনের একটি মামলায় ছয় মাসের সাজা হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও শোকজ করে। প্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টের রিট করলে আদেশ দুটি স্থগিত করা হয়। অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হরিদাস পাল এ তথ্য দেন।
আদালত ও মামলা সূত্র জানায়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বগুড়া সদর থানার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলা (জিআর-২৬/৯৬, দুপচাঁচিয়া) এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা ফৌজদারী (আপীল নং-৫৩/০৫) মামলায় পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮০ এর ১১ ধারায় গত বছরের ২৪ আগস্ট সাজা বহাল রাখা হয়।
এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ এর ৩১(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া একই আইনে ৩২ (২)(খ) ধারা মোতাবেক নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দন্ডিত হওয়া এবং ধারা ৩২(১)(ঘ) মোতাবেক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ কারণে কেন তাকে মেয়রের পদ হতে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবেনা তা ৩২(৩) ধারা অনুযায়ী পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই মামলায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শায়লা বেগমের আদালত গত বছরের ১১ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতে আপীল করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের আদেশের সার্টিফায়েড কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং-১৩৪৯৬) করলে মাননীয় বিচারপতি গত বছরের ৮ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের বরখাস্তের আদেশ ও ১৬ নভেম্বর শোকজের আদেশ স্থগিত করেন। এর প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল শেখ মো: মোরশেদ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে রিট করেন। গত ১০ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ও দু’জন বিচারপতির যৌথ বেঞ্চে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারপতিরা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের বরখাস্ত ও শোকজের আদেশ বহাল রাখেন।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে একাধিকবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ গত ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি নির্বাচনে আবারো মেয়র হন। এর আগে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামায় এ মামলাটিতে (জিআর-২৬/৯৬) খালাস দেখান।
এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ তৈরি করে দূর্নীতির মামলা ১০ বছর স্থগিত করে রাখার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে রিট শাখার সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল মোমেন গত বছরের ১৪ অক্টোবর বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন।
বগুড়া দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন জানান, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অপর মামলায় বগুড়ার জেলা জজ আদালত জাহাঙ্গীর আলমকে বাতিল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে তাকে মেয়র ঘোষণা করেন। গত বছরের ৪ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে গেজেট প্রকাশিত হয়। জাহাঙ্গীর আলম হাইকোটে রিট করলে বগুড়া জেলা জজ আদালতের (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল) আদেশ স্থগিত করা হয়।
সাবেক মেয়র বেলাল আরো জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।