বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্র্রদ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ৮১৪ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর থেকে সর্বোচ্চ শুল্ক আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ। যা অতীতের যে কোন সময় থেকে সর্বোচ্চ শুল্ক আদায়ের রেকর্ড বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন।
কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা, শতভাগ শুল্ক আদায়সহ বিএফডিসি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, ব্যবসায়ী ও জেলেদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করা আর নানামুখী পদক্ষেপের কারণে এই সফলতা এসেছে বলে জানান, কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল আলম ভূঁইয়া।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান বিপণন কেন্দ্র ছাড়াও জেলার কাপ্তাই, মারিশ্যা ও খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে তিনটি উপকেন্দ্র রয়েছে। এসব বিপণন কেন্দ্রে অবতরণ করা মাছের মধ্যে বেশির ভাগই কাঁচকি, চাপিলা, আয়ের মাছসহ অন্য ছোট প্রজাতির মাছ।
গত বছর কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং কার্প জাতীয় মাছের আধিক্য বাড়াতে ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত মাছ শিকার ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। হ্রদে পানি না বাড়ায় দুই দফা বাড়িয়ে এটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। পহেলা সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে শুরু হয় কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার। হ্রদ থেকে আহরিত মিঠা পানির মাছের মধ্যে রয়েছে-কাচকি, চাপিলা, তেলাপিয়া, আয়ের মাছ, ও রুই, মৃগেল জাতীয় মাছ।
এসব মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জেলেদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য ড্রেস কোড চালু, টহল টিমের জন্য ট্র্যাকিং ডিভাইস সিস্টেম চালুসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ ছাড়া মাছ শিকারের সময় ২৪ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়। অর্ধেক সময় পেলেও হ্রদ এলাকায় নিবন্ধিত ২৬ হাজার ৭৯১ জেলে রেকর্ড পরিমাণ মাছ আহরণ করেছেন।
কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৎস্য ব্যবসায়ী উদয়ন বড়ুয়া বলেন, গত কয়েকটি মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় এবার মাছ আহরণ বেড়েছে। এছাড়া মৎস্য আহরণে শৃঙ্খলা ফিরে আসায় ব্যবসায়ী এবং জেলেদের মধ্যে সমন্বয় ফিরে এসেছে। আহরণের সময় সীমা কমানো হলেও ব্যবসা ভাল হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বছর অন্যান্যবারের তুলনায় ভাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে এবং লাভবানও হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাঙ্গমাটি সদর, কাপ্তাই, মারিশ্যা ও মহালছড়ির চারটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ৪ হাজার ১৩৩ টন মাছ আসে। এ থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৮ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮৪ টন মাছ থেকে ৭ কোটি ৪৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯২৮ টন থেকে ৭ কোটি ২৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ হাজার ১৩১ টন মাছ থেকে ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। এ ছাড়া গত বছরে কাপ্তাই হ্রদে এগারোশো অভিযানে চার হাজার কেজি মাছ, ৩৫০টি নৌকা, তিন লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ থেকে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল আলম ভূঁইয়া বলেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন ও আহরণ প্রতি বছর কম ছিল। এজন্য হ্রদ-সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে শৃঙ্খলায় আনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। এখন জেলে থেকে ব্যবসায়ী সবার মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। এতেই এসেছে সফলতা। আর এই সফলতা ফিরে আসায় এর সাথে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়।এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মাছ থেকে বিপুল পরিমাণ শুল্ক আয় করে সরকার।