বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: গর্ভধারীনী মাকে (৬৫) জবাই করে হত্যার দায়ে ছেলে নাহিদ ইমরান নিয়নকে (৩৯) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোঃ আবুল বাশার মিঞা রবিবার দুপুরে এ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাহিদ ইমরান সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের খোর্দ্দ শিয়ালকোল গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের ছেলে। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) জেবুন্নেসা জেবা রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলা বিবরণ থেকে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের নিজ বাসা থেকে ২০২০ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের স্ত্রী সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা রশিদা খানমের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নাছিম ইমরান নিশাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করে। ওইদিন সকালে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পিংকি খাতুন তার বড় ভাই নাহিদ ইমরান নিয়নকে চাদর গায়ে দিয়ে বাসার বাইরে বের হয়ে যেতে দেখে। সেসময় পিংকি শাশুড়ি রশিদাকে কয়েকবার ডেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে তার গলা কাটা লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
পররবর্তিতে বাদী নিশাত লোকমুখে জানতে পারে যে তার বড় ভাই নিয়ন জুয়া খেলায় মত্ত হয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অনেক টাকা ধার নিয়েছেন। এ কারণে তিনি তার মাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে নাহিদ ইমরান নিয়ন ক্রিকেট জুয়ায় আসক্ত হয়ে অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের কারণে তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তার মা রশিদা খানমের কাছে টাকা দাবি করেন। কিন্তু মা টাকা দিতে অস্বীকার করায় মা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে নিয়ন মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ছুরি দিয়ে ঘুমন্ত মাকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায় সে।
ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর নিয়ন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসামির উপস্থিততে বিজ্ঞ আদালত উল্লেখিত রায় ঘোষণা করে।