সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না : জামায়াত আমির সৌদি আরবে কারাবন্দি ৭৫০০ বাংলাদেশি : শামা ওবায়েদ মোংলা বন্দর-সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে গোলাগুলি।। ২,৯৩৩ পর্যটককে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী দুর্নীতি বন্ধে আগে রাজনৈতিক নেতাদের সৎ হতে হবে: আইনমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানকে নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির অর্থ দিচ্ছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার, অস্থিরতার চেষ্টা করছে একটি দল : প্রধানমন্ত্রী দল ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাইনি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি: ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের গুঞ্জন।। মধ্যরাতে ইশরাকের ফেসবুক বার্তা

পাইকগাছায় আকষ্মিক জমির কয়েকগুণ গড়মূল্য বৃদ্ধিতে রেজিস্ট্রি হ্রাস

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ২৪০ দেখা হয়েছে

শেখ নাদীর শাহ, বাংলা হেডলাইনস পাইকগাছা(খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন মৌজায় জমির সরকার নির্দ্ধারিত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রয়-বিক্রয় আশংকাজনকহারে হ্রাস পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশার পাশাপাশি নিয়মিত রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। জমির গড় মূল্য নির্দ্ধারণে পুন:বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা।

জানা গেছে, সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতাধীন জমির ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে মৌজাওয়ারী গড়মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে জমির ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্ট্রি আশংকাজনক হ্রাস পেয়েছে।

জরুরী প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে ক্রেতার অনাগ্রহে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ১ জানুয়ারী থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ খাতে সংকট দৃশ্যমান হয়েছে। কেনা-বেচা কমে যাওয়ায় রেজিস্ট্রি অফিসে অলস সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা ফলে সরকারও নিয়মিত রাজস্ব আয়ের খাত থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার সব মৌজার জমির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও ১১ টি মৌজার গড়মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব মৌজার গড়মূল্য পুনঃবিবেচনার মাধ্যমে কমানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি দুই বছর অন্তর মৌজাওয়ারী জমির গড়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জমির মূল্য নির্ধারণ করে থাকলেও এবার দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জমির গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্য নির্ধারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকে। তারা মূলত জমির সর্বশেষ বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটিতে জমির ক্রয়-বিক্রয়ে প্রকৃত ও সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে পারে। এবার তাদেরও দৃশ্যমান অবস্থান না থাকায় প্রতিটি মৌজার শ্রেণি-ভিত্তিক প্রতি শতাংশ জমির গড় মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জমি রেজিস্ট্রিতে গ্রহিতাদের একটি বড় অংশ প্রিয়নশনের শঙ্কায় স্বাভাবিক বাজার মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্য দলিলে উল্লেখ করেন। অনেকে সরকারি অধিগ্রহণের টাকা বেশি প্রাপ্তির আশায় অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এমন নানা কারণে ২০২৫-২৬ সনে মৌজাওয়ারী জমির গড় মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার মৌজাগুলেরার মধ্যে সরল, আরাজী ভবানীপুর, কপিলমুনি,কাশিমনগর, গোপালপুর, চাঁদখালী, নগর শ্রীরামপুর, নাছিরপুর, বাতিখালী, শিবেরবাটী, ও পাইকগাছাসহ ১১ টি মৌজার গড়মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জমির গড় মূল্যের উপর দলিল খরচ নির্ভর করে। বিধায় এসব মৌজার জমি ক্রয়-বিক্রয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। রাস্তার পাশে অথবা বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং লোকালয়ের জমির স্বাভাবিক মূল্যের ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। এসব এলাকার জমির চাহিদাও বেশি। এ কারণেও কেনা-বেচায় ভোগান্তিতে পড়েছে অনেকেই।

কপিলমুনির প্রতাপকাটী এলাকার জনৈকা নারী জানান, তিনি ২৫ কাঠা জমি ক্রয় করতে দাতার সাথে ৯ লক্ষ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে নতুন নির্ধারিত গড় মূল্যের কারণে দলিল খরচসহ তার জমির মোট মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা হচ্ছে। ফলে ইচ্ছা সত্ত্বেও জমি ক্রয় করতে পারছেননা তিনি। তার মতো অনেকেই জমি কেনা-বেচা করতে পারছেন বলে অভিযোগ তার।

১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এমন যাতাকলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে অনিচ্ছা তৈরি হয়েছে। পক্ষান্তরে জমির স্বাভাবিক রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরকারও নিয়মিত রাজস্ব খাত থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৪০ থেকে ৫০ টি দলিল সম্পাদন হতো, বর্তমানে সেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি দলিল সম্পাদন হচ্ছে। জমির ক্রয়-বিক্রয় খাতটিকে স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারের রাজস্ব ত্বরান্বিত রাখতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ চিহ্নিত ১১টি মৌজার ২০২৫-২৬ সনের নির্ধারিত গড় মূল্য হ্রাসে পুনঃ বিবেচনার জন্য পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন করেছে।এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com