শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
জামায়াত শরিয়াহ রাষ্ট্র চায়: মির্জা ফখরুল তিস্তা প্রকল্পে চীনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এসেছে: রাষ্ট্রদূত ওয়েন তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবনবান্ধব’ : প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি তদন্তে প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশী সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জামায়াত আমীরের বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী চীন-মালয়েশিয়া সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার ‘অপেক্ষায়’ চীন: ফখরুল

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫
  • ১৫৮ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে চীন আরও গভীরভাবে কাজ করার ‘অপেক্ষায় আছে’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পাঁচ দিনের চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পরে সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সেখানে চীনের কর্মর্তাদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “চীন আশা প্রকাশ করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে আরও গভীর দৃঢ়তার সঙ্গে, আন্তরিকতার সঙ্গে, ভালোবাসার সঙ্গে, প্রেমের সঙ্গে কাজ করবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এক চীন নীতির প্রতি বিএনপি তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। সার্বিকভাবে এই সফরের মাধ্যমে আমরা এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উন্নততর, আরও ঘনিষ্ঠতর করার সুযোগ পেয়েছি যা আগামীতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরাতে চীনের মনোভাব কী, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব সোজাসাপটা জবাব দেন, “অত্যন্ত ইতিবাচক দেখেছি। তারা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহের কথা বলেছে।”

তিনি বলেন, “চীনের আগ্রহ যথেষ্ট রয়েছে যে, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখি।”

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থান এবং তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীনের সাথে আলোচনা হয়েছে তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীনের অধিকতর এবং কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি।”

চীন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কী বলে, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আলোচনায় ওরা (চীন) বলেছে যে তারা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে এবং ঐকান্তিকতার সঙ্গে এই বিষয়টির ওপর কাজ করছেন।

“মিয়ানমার সরকারকে তারা রাজি করানোর চেষ্টা করছে, যাতে খুব দ্রুত এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং আমাদের যে প্রয়োজন সেটা আমরা ব্যাখ্যা করেছি।

“তারা (চীন) এটাতে ইতিবাচকভাবে সাড়াও দিয়েছেন। এটার উপরে তারা কাজ করছেন। আমরা অবশ্যই, তাদের প্রস্তাব যদি তারা দেয়, সেই বিষয়টা ভবিষ্যতে যদি আমরা কখনো সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসি, তখন সেটা ইতিবাচকভাবেই দেখব বলে তাদের আমরা বলেছি।”

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভ’ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অনেকগুলো কাজই আপনার আছে, যেগুলো ইতিমধ্যে হয়েছে আর যদি কোনো কাজ থাকে, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ যদি মনে করে সেই কাজগুলো বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে, নিসন্দেহে তা বিবেচনা করা হবে।”

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ২২ জুন মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল চীন সফরে ‍যান।

সে দলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দল সঙ্গে বেজিংয়ে ‘গ্রেট হল অব পিপল’ এ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি), পার্টির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ও ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংসং, সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মিনিস্টার লিউ জিয়ানচাও, ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ানের বৈঠক হয়।

এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুং-ওয়ে-ডং এর সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির প্রতিনিধি দল সানজি প্রদেশের রাজধানী জিয়াং এ বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বি ওয়াই ডি, হাইটেক প্রযুক্তি পার্ক, জিয়াংটং বিশ্ববিদ্যালয়, আদর্শ গ্রাম পরিদর্শন করেছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বৈঠকের বিষয়বস্ত তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘এক চীন নীতির’ প্রতি বিএনপির দলীয় অবস্থান দৃঢ়ভাবে উচ্চারিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি এক চীন নীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কিন্তু এক চীন নীতি থেকে কখনো সরিনি। তাইওয়ানের একটা ট্রেড সেন্টার এখানে (ঢাকায়) কয়েকদিনের জন্য খোলা হয়েছিল। তারপরে সেটাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা, যোগাযোগ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, এসএমই বিজনেস, ‘ব্লু ইকোনমি’, উন্নততর প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে চীনের অধিকতর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সিপিসির সাথে বৈঠকে লি হংসং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রন জানিয়েছেন এবং দ্রুতই একটি নির্বাচিত সরকারের সাথে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চীন কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে দুই বছর মেয়াদী রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছি।”

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com