বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাত্র ২ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিঃস্ব ২১ পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্তরা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন সাহায্যের জন্য হাত পেতেছেন। স্থানীয় যুবকেরা তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
উক্ত উপজেলার রতনকান্দি ও ছোনগাছা ইউনিয়নের বাহুকা, চরচিলগাছা, ইটালি, মাছুয়াকান্দি ও ভেওয়ামারা গ্রামের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। চর চিলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির ও স্থানীয় মাতব্বর আব্দুল আজিজসহ অনেক নারী পুরুষ এ প্রতিবেদককে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আকাশে কালো মেঘের তর্জন গর্জন শুরু হয় এবং পূর্ব-দক্ষিণ কোণ থেকে ৪ কোনা কালো রঙ্গের কিছু উড়ে আসা দেখে তারা হেলিকপ্টার মনে করছিল। কিন্তু মাত্র ২ মিনিটে এই ঘূর্ণিঝড়ে উল্লেখিত গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে ও উড়ে নিয়ে যায়। সেইসাথে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বহু পরিবারের ঘরবাড়ি। এমনকি অনেকের বাড়ির টিউবওয়েলও উড়ে গেছে এবং পাটসহ অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বাহুকা ও চরচিলগাছা গ্রামের ২১ পরিবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের আর মাথা গোঁজার ঠাই নেই। এখন তারা শুধু করুণ কান্না ও আহাজারি করছে। তারা কয়েক বছর আগে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে সবকিছু হারিয়েছে এবং তারা পরবর্তীতে বাহুকা ও চরচিলগাছা গ্রামে এসে নতুন বসতি গড়ে তোলে। ঝড়ে নিঃস্ব আব্দুল হামিদ (৫২), শহিদুল (৪৫), মান্নান (৩৬), শিল্পী খাতুন (৪০), খুশি (৫০) ও আবু তাহেরসহ (৪০) অনেকেই বলছেন, নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়েছি। আবার এখানে এসেও ঘূর্ণিঝড়ে সবকিছু নিয়ে গেলো। এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও অনেকেই আহত হয়েছে। সবমিলে তাদের এ করুণ দৃশ্য দেখে স্থানীয় যুবকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে এবং ব্যানার টানিয়ে সাহায্য তুলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরাও তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছেন। অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসন শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শনিবারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হবে এবং তালিকার ভিত্তিতে তাদের পুনর্বাসন করা হবে বলে তিনি উলেখ করেন।