বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
পোশাকশিল্পে অস্থিরতাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর: মজুরি বোর্ড শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার অপচেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা শ্রমিকদের রুটি-রুজির স্বার্থ সংরক্ষণে সব পদক্ষেপ নেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবারও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা ঢাকা-সাভার-গাজিপুরে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন।। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ-কারখানা বন্ধ ঘোষণা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: জামায়াত আমির জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল বিপুল ভোটে বিজয়ী

ডাকসু: শেষ হলো প্রচারণা, ভোটের অপেক্ষা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৭ দেখা হয়েছে
সংগৃহীত।

বাংলা হেডলাইনস: আগামীকাল ৯ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই নির্বাচনকে ঘিরে আবারও উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।

গত ২৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছিল, যার শেষ দিন ছিল রবিবার। এই সময়ে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, কার্জন হল, বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলগুলোতে জমজমাট প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রার্থীরা রবিবার রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়াছেন।

তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে লিফলেট ও হ্যান্ডবিলের ছড়াছড়ি। প্রচারের জন্য হাতে হাতে বিলি করা এসব কাগজ মুহূর্তেই রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে। ফলে টিএসসি, কার্জন হল এবং বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির সামনের রাস্তায় কাগজের স্তূপ তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রচারণার ব্যাপকতা বোঝা যাচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল কৌশল অবলম্বন করেছেন। কার্যকরী সদস্য পদে এক প্রার্থী এক হাজার টাকার নোটের আদলে লিফলেট ছাপিয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। অন্য এক প্রার্থী মার্কিন এক ডলারের আকারের প্রচারপত্র তৈরি করেছেন। এছাড়াও ইংরেজি পত্রিকার পেপার কাটিং, বিড়াল প্রেমীদের জন্য বিড়াল, হাতপাখা, খেলার ব্যাড-বলসহ নানাভাবে লিফলেট বানিয়ে চলেছে প্রচারণা। শেষ সময় পর্যন্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অভিনব প্রচারণার কৌশল অবলম্বন করেছেন প্রার্থীরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রচারণার আবহ এবার তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। বড় কোনো সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

নির্বাচনী উত্তাপকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই তৈরি হয় উৎসবমুখর আবহ। ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা হলগুলো ঘুরছেন। রুমে রুমে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। লিফলেট বিলি করছে জানাচ্ছেন নিজের ইশতেহারের বিষয়ে। জয়ী হলে কী কী করবেন সেটাও জানাচ্ছেন সুযোগ পেলে। ভিপি-জিএস থেকে সম্পাদক, একা অথবা দল-বল নিয়ে ভোটারদের রুমে গিয়ে ভোট চেয়েছেন পুরোটা সময়।

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচন ঘিরেও সমান তৎপর ছিলেন প্রার্থীরা। প্রত্যেকেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সামনে এনে দিয়েছেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি। কোথাও প্রতিশ্রুত হয় ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন, হলে জিমনেসিয়াম, খেলার সরঞ্জাম সরবরাহ, কোথাও আবার দাবি ওঠে লাইব্রেরির ও পাঠ কক্ষের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির। শেষ দিনে প্রতিটি হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই হলের প্রার্থীরা সরাসরি মতবিনিময় ও নিজের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনে ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা।

প্রচারণার শেষ দিনেও থেমে থাকেনি রুম-টু-রুম প্রচারণা। প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কক্ষ কক্ষ ঘুরে সরাসরি কথা বলেছেন, নিজেদের ভিশন তুলে ধরেছেন। অনেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় বসে খোঁজ নিয়েছেন পড়াশোনা ও আবাসিক জীবনের সমস্যা নিয়ে। প্রার্থীরা বলছেন, শেষ মুহূর্তের এ সরাসরি যোগাযোগ ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব কৌশল ব্যবহার করে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। বিশেষ করে ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক জসীম উদ্দীন বলেন, নির্বাচন দিন ঘিরে ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকশ সাংবাদিকও ভোটের দিন মাঠে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ভোটের ক্ষেত্রেও কারচুপি যাতে না হয় সেক্ষেত্রে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন এমন অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিলহজ্জ শেখ বলেন, আমরা শুধু চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এতে আসল প্রতিনিধি উঠে আসুক। ভোটের পর নির্বাচিতরা যেন ইশতেহার ভুলে না যায়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সূত্র: গণমাধ্যম।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com