বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : অব্যাহত প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে অসময়ে সিরাজগঞ্জে যমুনায় আবারো পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও কাজিপুর পয়েন্টেও ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে অভ্যান্তরীন নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ইতোমধ্যেই যমুনার তীরবর্তী কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে যমুনা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে অসময়ে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রায় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে অসময়ে আবারো যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যমুনার তীরবর্তী ওই ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সদ্য রোপন করা রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল। বিশেষ করে শাহজাদপুর, বেলকুচি ও কাজিপুর উপজেলার অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চলনবিল এলাকার সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে এবং আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। যমুনায় এ অসময়ে পানি বৃদ্ধির ফলে শীতকালীন সবজির আবাদও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। এদিকে যমুনার তীরবর্তী ওই উপজেলাগুলোর চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে।ভাঙ্গনে গত সপ্তাহে চৌহালী বেড়িবাঁধের প্র্রায় ৫০ মিটার বাঁধ যমুনাগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনায় আরো কয়েকদিন পানি বাড়তে পারে। তবে বন্যার তেমন কোন আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।