বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে হাড় কাঁপানো শীত, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
যমুনার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে গরিব ও অসহায় মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। জেলা উপজেলা শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। শাহজাদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল জানান,রবিবার বাঘাবাড়িতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড শীত, ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়ায় সিরাজগঞ্জে মৃদু শৈতপ্রবাহ বইছে। রবিবার ভোর রাত থেকে এ শীত, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার প্রভাব আরো বেড়েছে। এ কারণে শীতে কাঁপছে চরাঞ্চলসহ যমুনা পাড়ের মানুষ। শহর বন্দরের দোকানপাটে কেনাকাটাও কমে গেছে।
শহর ও গ্রামঞ্চলে আগুনের কুন্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। শীতের প্রভাব বাড়তে থাকায় শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের সর্দি কাশিসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলা উপজেলা হাসপাতালে এ রোগে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল ও কলেজে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নুরুল আমিন বলেন, প্রচন্ড শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, এ্যাজমা ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সময়ে শিশু-বৃদ্ধদেরকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই শীতে গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজন শীতবস্ত্রেরঅভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া কৃষকেরা মাঠে নামতেও হিমশিম খাচ্ছে এবং আয় উপার্জনও ব্যাহত হচ্ছে। শহর ও গ্রামঞ্চলের হাট-বাজারে শীত নিবারণের পুরাতন কাপড় সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। ফলে অসহায় পরিবারের লোকজন শীত নিবারণে এ কাপড় কিনতে পারছেনা। এ শীতে যমুনা নদীর তীরবর্তী বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজনের অবস্থা এখন কাহিল। তবে এ শীত নিবারণে অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ উপজেলার চরাঞ্চলের শীতার্তদের মাঝে ইতিমধ্যেই কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্বল বিতরণ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে সাড়ে ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী বরাদ্দে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্র রেকর্ড করা হলেও রবিবার সকালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।