বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে প্রকাশ্যে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে (১৭) কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২ সদস্যরা।
গ্রেপ্তার সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মতির ছেলে। র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির সহকারী পুলিশ সুপার অপস অফিসার মোঃ উসমান গণি বৃহস্পতিবার (৮ই জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড় বাহিরগোলা রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।রাতে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রিয়াদ শহরের সয়াধানগড়া খাঁ পাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে ও ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদ্বশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যও ছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায় আব্দুর রহমান রিয়াদ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেশ কয়েক তরুণ অটোরিকশার ভেতরেই রিয়াদকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে সাকিনকে প্রধান আসামিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চৌরাস্তা মোড় এলাকার ১০তলা ভবনের পাশে তারছেলে আব্দুর রহমান রিয়াদ ও ১নং আসামি মোঃ সাকিনসহ আরো ৩৬ জন প্রাইভেট পড়ার জন্য যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াদসহ তার ৩ বন্ধু চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর বসে ছিল। এ সময় পরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রিয়াদকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সাকিন তার কাছে থাকা বার্মিজ চাইনিজ টিপ চাকু দিয়ে রিয়াদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অন্যান্য আসামিরা চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে পালিয়ে যায়। নির্মম এ হত্যাকান্ডের পর আত্মগোপনে থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে র্যাব সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ঢাকার সাভার থানার কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানিতে’ অভিযান চালিয়ে সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে থানায় সদর হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সাকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আসামিকে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।