বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবনবান্ধব’ : প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি তদন্তে প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশী সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জামায়াত আমীরের বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী চীন-মালয়েশিয়া সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই করের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ

‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ পথে না থাকতে পারায় ক্ষমা চাইলেন এবি পার্টির মঞ্জু

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বললেও সেখানে না থেকে পুরনো ধারার দিকে ঢুকে পড়ায় ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে এবি পার্টির বেরিয়ে আসার গুঞ্জনের মধ্যে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের অপরাধটা হচ্ছে, আমরা যে অঙ্গীকার করেছিলাম, যে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে আমরা দাঁড়াব, বর্তমান নির্বাচনের ডামাডোলে আমরা সেটা দাঁড়াতে পারি নাই।

“সেই ব্যর্থতার দায় আমাদের; খানিকটা এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা, এই নির্বাচন ব্যবস্থাপনার, সেই আমাদের দায় থেকে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার ডাক আসে তরুণদের তরফে।

এই লক্ষ্যে অভ্যুত্থানের সামনের সারির ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গত বছর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের ইসলামীল নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে এনসিপি। তাদের সঙ্গী হয়েছে এবি পার্টিও।

দলের চেয়ারম্যান মঞ্জু বলেন, “আজকে এখানে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ নিতে চাই। সেটা হচ্ছে, ক্ষমা প্রার্থনা। আপনারা জানেন, আমরা একটা নতুন রাজনীতির, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছিলাম।

“কিন্তু শেষতক পুরনো বন্দোবস্তের ভেতরে আমাদের ঢুকে যেতে হয়েছে এবং এজন্য আমি নাগরিকদের দায়ী করব না। প্রথমত, নিজেদেরকে দায়ী করব, যে আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন।”

পুরনো ধারায় ঢুকে পড়ার পেছনে দলীয়ভাবে ৬০ ভাগ দায়ী হওয়ার কথা তুলে ধরে জামায়াত থেকে বেরিয়ে নতুন দল করা এই নেতা বলেন, “কারণ আমরা যে প্রত্যাশা চেয়েছিলাম, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্রোত এবং নির্বাচন আমাদেরকে সেখানে দাঁড়াতে দেয়নি।

“এজন্য দায়ভার যদি ভাগ করি, তাহলে ৬০ ভাগ দায় আমাদের মধ্যে আসে, আমরা যারা তরুণ বা তরুণোত্তর জীবনযাপন করছি, নতুন রাজনীতির কথা ভাবছি। দিনশেষে নির্বাচন নামক যে জোয়ারটা আসে, সেখানে আমাদেরকে আটকে যেতে হয়, ভেসে যেতে হয়।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন বাংলাদেশে এমন একটা জিনিস, যেটা নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব এবং সতীত্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলে।

“যদি আমার কখনও সুযোগ হয় লেখার, আমি হয়ত সেটা লিখব। জানি না, আমাদের লেখা পড়ার পাঠক তখন থাকবে কি-না। কারণ, আমরা সর্বশেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলাম, যে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে আমাদের একটা ভয়েস থাকুক, নির্বাচন হই বা না হই আমরা দাঁড়াই।”

এনসিপি ও এবি পার্টি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার আগে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট নামে একটি মোর্চা গড়েছিল।

সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি নিয়ে আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক দল এই জোটের সূচনা করে।

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) সে সময় এই মোর্চায় ছিল।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটের রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং তার পরদিন এবি পার্টি এই জোটে আসার ঘোষণা দেয়।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে ১১ দলীয় এই জোটে আসন ভাগাভাগির মীমাংসা এখনও হয়নি।

প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে এবং মূলনীতির বিষয়ে ঐকমত্য না হলে শেষ পর্যন্ত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি।

আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ সংলাপে সঞ্চালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবি পার্টির এই শীর্ষ নেতাকে প্রশ্ন করেন ‘নতুন বন্দোবস্ত কি?’

জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমরা ভুল করব, ভুল থেকে শিখব এবং ভুল থেকে নিজেদেরকে সংশোধন করব। এটাই হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।

“আমরা দাঁড়াতে পারলাম না কেন? তরুণদের মধ্যেও একটা অংশ ভাবছে, যে আমি যদি বড় একটা রাজনৈতিক দলের সমর্থন না পাই, তাহলে আমিতো নির্বাচিত হতে পারব না।”

বাংলাদেশে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে লোকবল এবং অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এবি পার্টির প্রধান বলেন, “কারণ, নির্বাচন মানে কি… প্রত্যেক কেন্দ্রে আপনাকে এজেন্ট দিতে হবে। নির্বাচন মানে কি, প্রত্যেক কেন্দ্রে আপনাকে ভোটার পাহারা দেওয়া, আপনাকে প্রথাগত যে পদ্ধতি আছে, সেখানে অংশগ্রহণ করতে হবে।

“কিন্তু আমরা তো নতুন রাজনৈতিক দল, আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা সেভাবে তৈরি হয় নাই। এখন কথা হচ্ছে, তাহলে ভবিষ্যতে হবে। এই যে ভবিষ্যতে হবে… আপনি যদি আমাদের ফেইসবুক পোস্টগুলো দেখেন, বেশিরভাগ জায়গায় মানুষ বুলিং করে, যে ‘তোমাদের কি ১০০টা ভোট আছে?’ ‘তোমাদের কি কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা আছে?’

মানুষ প্রত্যাশা জানালেও পৃষ্ঠপোষকতা সেভাবে করে না বলে মন্তব্য করে মঞ্জু বলেন, অনেকে নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা করেন, কিন্তু তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয় হচ্ছে, ‘তেলে মাথায় তেল দেওয়া’।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com