শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি মিষ্টি রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থানে বসার সুযোগ দিতে হবে: জামায়াত আমির টিকাকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার বিব্রত: উপদেষ্টা জাহেদ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা-দিল্লি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম বোয়িং চুক্তিতে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি তুললেন নাহিদ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা–এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের দায়িত্ব। এই রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে, নেতিবাচক কথা-বার্তা বলেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছে।

“কাজেই আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন যে রাষ্ট্রপতি, তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এবং তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাতেও আসলে শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এ রাষ্ট্রপতি আর এই দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য নন।”

এনসিপি নেতা বলেন, “সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, তার প্রথম কাজটি হবে এই ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন সংসদের সরকারি দল বিরোধী দল মিলে কাজটি করবে বলে আমরা মনে করি। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গভবনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেয়। বঙ্গভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ, নাটকীয়তা। পরে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়।

আওয়ামী লীগের পতন পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বুধবার বলেন, “সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে কিন্তু এই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হননি।

“কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সেই সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা ইত্যাদি অনেক কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ হয়েছে। তাই আমরা মনে করি এখন এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের বিষয়।”

এই দাবির পেছনে যুক্তি দিয়ে নাহিদ বলেন, “জুলাই গণহত্যা যখন হয়েছিল, সেই সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। সেই সময় তিনি নীরব ও নিশ্চুপ ছিলেন। তার নীরব ভূমিকার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। কাজেই এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত।

“এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক আগে থেকেই আর্থিক অনৈতিকতারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা সম্মান, শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্যের যে ব্যাক্তিত্ব বুঝি, তার কোনটাই আসলে তার নেই। নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানোর। তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা–আমরা মনে করি নতুন সরকারের এটা অন্যতম দায়িত্ব।”

সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রপতির অভিশংসিত হওয়ার নজির নেই।

বাংলাদেশে এর আগে সব সময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ২০০২ সালে অপসারণের উদ্যোগ নেয় তখনকার সরকার। সংসদে সেই প্রস্তুতির মধ্যে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com