বাংলা হেডলাইনস : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থানে হতাশা ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আন্দোলন ছাড়া আর পথ খোলা নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে বুধবার ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। পরে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে শফিকুর রহমান বলেন, “আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে? আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সাথে নিয়েই করব। আন্দোলনের বিষয়ে ১১টি দল আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগে ওয়াকআউট করেছি। খুবই বিস্মিত, আহত, মর্মাহত। এর আগে বাংলাদেশে তিনটি গণভোট হয়েছে। কোনো গণভোট এভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটি গণভোটেই জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে।
“এই প্রথম, সরকারি দল, বিরোধী দল, সবাই আমরা একমত ছিলাম, সবাই চাইলাম, সবাই এরপক্ষে ভোট চাইলাম। এখানে সেটা অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হলো, শেষ করে দেওয়া হলো। কার্যত জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়, যেটাকে সংবিধানের চূড়ান্ত জায়গা দেওয়া হয়েছে সেটাকে লঙ্ঘন করা হলো।“
এর আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আনা মূলতবি প্রস্তাবে ‘প্রতিকার’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
বিকালে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলের উদ্দেশে শফিকুর বলেন, “গতদিন অনুরোধ করেছিলাম, আমিও বললাম, আপনিও বললেন, আমরাও বললাম, আপনারা বললেন, এখন আমরা আলাদা হয়ে গেলাম কেন? আসেন, আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। তাহলে মহান সংসদ সম্মানিত হবে। কিন্তু না, এই আহ্বানের প্রতি তারা সম্মান প্রদর্শন করেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে।”
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “সেই দিনের পটপরিবর্তনের পর প্রধান রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির কয়েকজন সদস্য বঙ্গভবনে বসেছিলাম। প্রেসিডেন্ট (মো. সাহাবুদ্দিন) স্পষ্টভাবে বলেছিলেন আমাদের প্রশ্নের জবাবে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি মুঞ্জুর করেছেন কিনা। তিনি বলেছেন, মঞ্জুর করেছেন।
“এর প্রেক্ষিতে আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফিরে আসুক। সেদিন কিছু পরামর্শ রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছিলাম।
“এও বলেছি, গণঅভ্যুত্থান আর বিপ্লব যাই বলি, এখানে মূল নেতৃত্বের জায়গাটায় তরুণ, যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ ছিল। তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপনাদের বসতে হবে। তাদের কথা শুনবেন। তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেবেন। আর আমরা যে পরামর্শ দিয়ে গেলাম, সেগুলোকেও আপনারা কনসিডারেশনে নেবেন। নিয়ে দ্রুত যাতে দেশ আবার একটা শৃঙ্খলার দিকে ফিরে আসে, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”
সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শফিকুর বলেন, “এখানে কথা ছিল পরের দিনই তিনি (রাষ্ট্রপতি) সংসদ ভেঙে দেবেন। পরের দিন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেবেন এবং দ্রুততম সময়ের ভেতরে একটা অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাঠামো গঠন করবেন।
“২০২৪ সালের ৫, ৬, ৭ ও ৮ আগস্ট দেশে কার্যত সরকারব্যবস্থা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল না। রাস্তায় তাও সীমিত, সেনাবাহিনীর সামান্য টহল ছিল। বিপ্লব ও অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে ব্যাপক জীবনহানি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আনরেস্ট অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম।”
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল খান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের নেতা পীরজাদা হানজালা উপস্থিত ছিলেন।