বাংলা হেডলাইনস: বৈশ্বিক প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়।
প্রস্তাবিত এই বাজেট ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরী প্রয়োজন মেটাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বিকাল ৩ টায় এই বাজেট উপস্থাপন করেন। স্পিকার ড: শিরিন শারমিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে মন্ত্রী পরিষদের বিশেষ সভায় জাতীয় বাজেটে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে অনুস্বাক্ষর করেন ।
অর্থমন্ত্রী বলেন ‘জরুরি প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য, আমি ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।’ স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুস্তফা কামাল বলেন ‘কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার জন্য, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে আমরা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।’ তিনি বলেন, মহামারি মোকাবিলায় যা যা করা প্রয়োজন সরকার তা করবে।
কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট, মাস্ক এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং এবং স্থানীয়ভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও পিপিই উৎপাদন করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর সকল আমদানি শুল্ক এবং কর ছাড়ের জন্য বাজেটের আগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া হিসেবে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, জানান অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে অটোক্লেভ মেশিন উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব দেন তিনি।
দেশে করোনাভাইরাস মহামারী থেকে উত্তোরণের জন্য অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। যা গত বছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ২৩.৪৪ শতাংশ বেশি।
‘আমি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা,’ মন্ত্রী বলেন।
তিনি বলেন, বর্ধিত বরাদ্দ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতের জন্য কোভিড -১৯-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার প্রদানে প্রস্তাব করা হয়েছে।