বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: ভয়াবহ বন্যায় ভাঙছে একের পর এক গ্রামীন জনপদের ব্রীজ । বিচ্ছিন্ন হচ্ছে একর পর এক গ্রামীন জনপদ ।
বন্যা দূর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে গোখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি আর খাবারের তীব্র সংকট। যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়াও কমেনি জেলার ধলেশ্বরী, ঝিনাইসহ অন্যান্য নদীর পানি।
এতে টাঙ্গাইলে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, রাস্তা ঘাট ও হাটবাজার। প্রথম দফার বন্যার রেশ কাটতে না কাটতে আবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতি, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নতুন নতুন । হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর এলাকায় ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত সেতুটির পূর্বাংশের একটি পিলার ও দুইটি স্ল্যাব ভেঙে যায়।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার আইসড়া, একঢালা, দোহার, দাপনাজোর, দেউলী, জশিহাটী, হাকিমপুর, মূড়াকৈসহ প্রায় ১৫-২০টি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গত (১৬জুলাই) বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে বাসাইল উপজেলার ছোনকা পাড়া ব্রিজ। এর ফলে বাসাইল উপজেলা সদর হতে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন সড়কটি বন্ধ রয়েছে।
এতে বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া, ছনকাপাড়া, কাজিরাপাড়া, কোদালিয়াপাড়া, ফতেপুর, পাটদিঘীসহ প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
গত (১৭ জুলাই) শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্যার পানির স্রোতে চৌহালী-আরিচা সড়কের উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়ায় বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে দু উপজেলার ২০ টি গ্রামের মানুষের।
চলতি মাসের ৪ জুলাই রাতে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেলটিয়া উত্তরপাড়ার বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রক্ষাবাঁধ এলাকার সেতুপূর্ব রক্ষা দ্বিতীয় গাইডবাঁধ ভেঙে ২৩টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে।
একই রাতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত স্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজটির তিনটি স্থান ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের কয়েকটি স্থানে দেখা দেয়া লিকেজ । তারাই এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধের রাস্তাটি প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে।
এছাড়াও পানি না কমা পর্যন্ত নাগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজটির মেরামত সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।