বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: বৃহত্তর ময়মনসিংহে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে হাজার হাজার আদিবাসী নারী-পুরুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বিউটি পার্লার, পোষাক শিল্প, বিভিন্ন কোম্পানী, সরকারি- বেসরকারি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী হারিয়ে অভাব-অনটনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও আদিবাসীদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না ।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন ও ১১ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের আদিবাসী সংগঠনগুলো।
আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ইউসিজিএম, এসিভিএফ, থাংআনী কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, আবিসা আদিবাসী কো- অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, বাগাছাস, গাসু, জিএসএফ ও আচিক মিচিক সোসাইটি যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আচিক মিচিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলেখা ম্রং।
সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের আদিবাসীরা ভাল নেই। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের আদিবাসীরা।
১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা, আদিবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে শতকরা ৫ ভাগ অর্থাৎ ১৫টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ দেয়া, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনসহ একজন আদিবাসীকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা, সমতলের আদিবাসীদের ভুমির অধিকার রক্ষার জন্য আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা, সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সমতল আদিবাসী নারীদের মনোনয়ন প্রদান করা, আইএলও কনভেশন নং ১০৭ এর আলোকে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন পূর্বক তা বাস্তবায়ন করা এবং শিক্ষা ও সরকারি চাকরির সকল স্তরে আদিবাসীদের জন্য শতকরা ৫ ভাগ কোটা বরাদ্দ বহাল রাখা।
আরও দাবিগুলো হলো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে) ও প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটিতে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বন মামলা ও অন্যান্য হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং ‘বন আইন ২০১৯’ সংশোধনসহ নতুন করে মিথ্যা বন মামলা দায়ের করা থেকে বিরত থাকা ও আদিবাসীদের বংশানুক্রমিক স্বত্ব দখলীয় ও সরকারী খাস জমিসমূহের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করা ।