বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের কাজ শেষ হয়নি।
ফলে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছেনা। এতে রোগিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্টা অক্সিজেন লিমিটেডের ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা ছিল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এসেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলতি মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ গত বছরের মার্চে ২৫০ শয্যার বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে আইসোলেশন ইউনিট ঘোষণা দেয়।
এখানে চিকিৎসাধীন রোগিদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। করোনা আক্রান্ত রোগিদের সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সেবা দেওয়া হতো।
কিন্তু রোগির সংখ্যা বেশি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ অপ্রতুল হওয়া এ আইসোলেশনে তিন কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়। ফলে হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় সিলিন্ডার সরবরাহ না থাকলে রোগির দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে এ হাসপাতালে আটটি আইসিইউ বেডের অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের কাজ শেষ না হওয়ায় বেডগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ওয়ার্ডটি করোনা টিকাদানের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগির অক্সিজেনের লেভেল নিচে নেমে গেলে দ্রুত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। তখন সংকটাপন্ন রোগিকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের কাছে দুটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা আছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক আরো দু’টি হস্তান্তর করেছেন। তিনি আরো জানান, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের কাজটি গত ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেনি।
এতে মূমুর্ষ রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তরল ওষুধ এসেছে।
ঠিকাদার চলতি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে। ভুক্তভোগী জনগণ মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশনে অবিলম্বে আইসিইউ বেড স্থাপন ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ইউনিট চালু করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।