বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ হাজারো পুণ্যার্থীদের সমাগমে রাঙ্গামাটি সদরের ৫নং বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের উলুছড়িমুখ মৈত্রী বনবিহারে দু’দিনব্যাপী ২০তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত হয়েছে। রোববার বিকালে ধর্মীয় আচারে পঞ্চশীল গ্রহণ, বেইন ঘর উদ্বোধন, চড়কায় সুতাকাটা, সুতা লাঙানো, সুতা সিদ্ধ ও রং করা, বেইন বুননের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের দানোৎসব। সোমবার সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন ও অনুষ্ঠান মঞ্চে ভিক্ষু সংঘকে ফুলের তোরা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের
অনুষ্ঠানসূচি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ধর্ম দেশনা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধ মূর্তিদান, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, ত্রিপিটক দান, বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্য টাকা দানসহ নানাবিধ দানে বিকালে কঠিন চীবর দান উৎসর্গ ও কল্পতরু দানের মধ্যে শেষ হয় দু’দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। শ্রাবক বুদ্ধ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের প্রধান শিষ্য ও ধর্ম প্রচারক শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির উলুছড়িমুখ মৈত্রী বনবিহারে পদার্পণে হাজারো ভক্ত অনুসারী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
খাগড়াছড়ি-বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ,
শ্রাবক বুদ্ধ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে ও শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরের জয়ধ্বনিতে কল্পতরু ও কঠিন চীবরকে নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিহার প্রাঙ্গন। বিশ্ব শান্তির মঙ্গল কামনায় অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সার্বজনীন মঙ্গল প্রদীপ পূজা করা হয়। কঠিন চীবর দানে সিংহভাগ অর্থায়নে সহায়তা করেছেন সমাজসেবী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মধু মঙ্গল চাকমা। এছাড়াও গত চার বছরের ন্যায় একইভাবে এবারে কঠিন চীবর দানের দু’দিনের ভোজনের সমস্ত খরচের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন সমাজসেবী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুশীল চাকমা (কালাচান)।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় উলুছড়িমুখ মৈত্রী বনবিহার পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে মধু মঙ্গল চাকমা ও সুশীল চাকমাকে (কালাচান) সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রীহরি চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক চিত্র রঞ্জন চাকমা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উলুছড়ি মুখ মৈত্রী বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রীহরি চাকমা ও সাধারণ
সম্পাদক চিত্র রঞ্জন চাকমা। বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন কবিতা চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রিপন চাকমা ও মেকী চাকমা। ব্যাতিক্রমধর্মী আয়োজনে এবারে ৭ বছর বয়সী শিশু ক্ষেমা চাকমা ও অতোশী চাকমা পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ করেন। এতে ধর্ম দেশনা দেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন, ধর্মপ্রচারক , শ্রাবক বুদ্ধ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের প্রধান শিষ্য শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির,খাগড়াছড়ি দিঘীনালার ধুতাঙ্গটিলা বনবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দেবধাম্মা মহাস্থবির,
রাজবন বিহারের শাখা বনবিহার সুবলং মাইচছড়ি বনহিারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ মুক্তপ্রিয় স্থবিরসহ অন্যান্য প্রমূখ।
ধর্ম দেশনায় শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসরত চাকমাদের মধ্যে বর্তমানে উভয়ের মধ্যে মারামারি করে জীবন হানি ও অর্থ হানি হয়ে হিংসায় লিপ্ত হয়েছে। অনেকে ধর্মকে বিশ্বাস করে না। আর সে কারণে দান দেওয়ার
মনমাসকিতাও কমে গেছে। ডেসটিনি, ইউনিপে এসব কোম্পানীগুলো সকল মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে জুম্মদের হয়রানি করে সর্বনাশ করেছে। অথচ কিন্তু সেসব লাখ টাকা যদি বুদ্ধের শাসনে দান করা হতো তাহলে ভবিষ্যৎ হতো সুখময়।
সেজন্য মানবজীবনে সুখ লাভের জন্য দানই হচ্ছে অন্যতম। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষা শুধু মানুষকে জ্ঞানী করে তুলে না। মানবজীবনে শুধু শিক্ষাই ভূমিকা রাখে না। শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মজ্ঞান লাভ করতে হবে। অনেকে আছে পেশায় শিক্ষক, পিএইচডি ডিগ্রীধারী। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় তারা সংসারে ঝগড়া করে। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পাগলামি করে। সে জন্য শিক্ষার পাশাপাশি ধর্ম শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। আর তার পাশাপাশি নিজ সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।