বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি তৃতীয় দফায় আবারো বিধিনিষেধের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।
এরমধ্যে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় আক্রান্তের হার ৬০ ভাগের মত। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন এক গণবিজ্ঞপির মাধ্যমে চলতি মাসের ৩০ জুন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ এর সময়কাল বৃদ্ধি করেছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৭জুন তারিখে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস এর ঝুঁকি মোকাবেলায় সংক্রমণ রোধ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মুল) আইন ২০১৮ এর ১১(১)(২)৩)ধারা মোতাবেক পৌর এলাকায় ২৬ জুন থেকে ৩০জুন পর্যন্ত বিধি নিষেধ বৃদ্ধি করা হল।
গণবিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের আওতায় কুড়িগ্রাম পৌরসভার দোকানপাট, শপিংমলসমূহ, চাওয়ালা, ফেরিওয়ালাসহ বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ব্যবসায়ী (হকার) এর দোকান সন্ধ্যা ৭টা হতে পরবর্তী দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরা সমূহ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র পার্শেল আকারে /অনলাইনে বিক্রি করতে পারবে।
কোনভাবেই কোন ব্যক্তি হোটেল/রেস্তোরায় বসে খাবার খেতে পারবেন না।
প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হলো। সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে মানুষের চলাচল বিজিবি কঠোরভাবে নজরদারী করবে। কাচা বাজার, মাছ বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে। বিধি নিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এর আগে কুড়িগ্রাম জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি গত ১৫ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত প্রথমবারের মত কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকার ২, ৩, ও ৭নং ওয়ার্ডে অধিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে বিশেষ বিধি নিষেধ আরোপ করে।
এরপর ১৯জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য দ্বিতীয় দফায় কুড়িগ্রাম পৌরসভার গোটা এলাকাকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়।
এরপরও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামি ৩০জুন পর্যন্ত তৃতীয় দফায় কুড়িগ্রাম পৌরসভা এলাকাকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, গত দুই সপ্তাহ থেকে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৯জন প্রাণ হারিয়েছে। গত ২৫জুন পর্যন্ত জেলায় ৯৮৪১ জনের পরীক্ষায় ১৫৭৬ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে।