বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় করোনা বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে আট রোগির মৃত্যুর খবরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ দুটি সরকারি হাসপাতালে ২০ সেট হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা উপহার দিয়েছে।
এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের পক্ষে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া অঞ্চলের প্রধান আবদুস সোবহান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম উল্লাহ শনিবার সকালে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব হস্তান্তর করেন।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ১০টি করে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা হস্তান্তরের সময় বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন, সিভিল সার্জন ডা. গউসুল আজিম চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএমনুরুজ্জামান সঞ্চয়, শজিমেকের অধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল, উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত বছর মার্চ-এপ্রিলে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু হওয়ার পর ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ২২০ বেডের করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত মার্চে এখানে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ইউনিট চালু হলেও গত এক বছরে এখানে রোগীর শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা দেয়া হয়নি। এখানে দুটি ক্যানুলো থাকলেও একটি মাঝে মাঝে অকেজো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া দুটি ক্যানুলা বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান সিস্টেম না মেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া দুটি ক্যানুলা চালু করা সম্ভব হয়নি। এস আলম গ্রæপ ১০টি ক্যানুলা উপহার দেওয়ায় করোনা রোগীদের আরো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, এখানে ১২টি ক্যানুলা থাকলেও একটি বিকল। ১১টি দিয়ে শতাধিক রোগীকে সেবা দিতে হয়। নতুন করে ১০টি ক্যানুলা পাওয়ায় রোগীদের আরো বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
বগুড়ায় করোনা বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার অভাবে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শ্বাসকষ্টে আট করোনা রোগী মারা যান।
তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান এখানে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ইউনিটে মূল্যবান ‘হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা’র সংকট থাকলেও কেউ অক্সিজেনের অভাবে মারা যাননি। মৃতরা সকলে বয়োবৃদ্ধ, ডায়াবেটিসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত।
এছাড়া তাদের সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
বিবৃতিতে একই কথা বলেন, জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। এ মৃত্যুর খবরটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এসআলম গ্রুপ বিষয়টি জানতে পেরে দুটি হাসপাতালে ১০টি করে ২০টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।