বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া বিআরটিএ অফিসে যানবাহনের শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনগণ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংক ফি জমা দিচ্ছেন। অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন। পাশাপাশি হেলমেট কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় করা হচ্ছে। ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কার্যালয়ে থার্ডপার্টি ইন্সুরেন্স সনদ বিক্রিও বেড়েছে। নতুন পরিবহন আইনে শাস্তি ও জরিমানার টাকা বৃদ্ধির পর জনগণের মাঝে এ সচেতনতা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহণ আইন কার্যকর হয়েছে। এ আইনে সাজা ও জরিমানা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ফিটনেস সনদ না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে নতুন আইনে। সে সাথে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডও হতে পারে। আগে এ অপরাধের জরিমানা ছিল ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথর্রিটি (বিআরটিএ) বগুড়ার সহকারি পরিচালক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মোটর সাইকেল ও হালকা যানবাহনের লাইসেন্স পেতে জনগণের ভিড় বেড়েছে। গত অক্টোবর মাসে এক হাজার ৫৬৮টি শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন পড়েছিল। নতুন আইন কার্যকর হবার পর নভেম্বরের ৩ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত ৮ শতাধিক আবেদন পড়েছে। মোটর সাইকেলের ৩৪৫ টাকা ও হালকা যানবাহনের জন্য ৫১৮ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা তথ্য নিতে ভিড় করছেন। বিআরটিএ বগুড়া অফিসের কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, অফিসে এসে হাতে ফরম পূরণ করে বা বাহিরে অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। অন্তত অর্ধেক আবেদন পড়ছে অলাইনে। অফিসে আসা লোকজন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দিচ্ছেন।
এদিকে জনগণ লাইসেন্স তৈরি ও হালনাগাদ করার পাশাপাশি হেলমেট কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। বগুড়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান রেজা জানান, হেলমেট ব্যবহার না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদন্ড বা উভয়দন্ড হতে পারে। শুধু বাইক চালক নয়; আরোহীকেও হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে তিনিও একই দন্ডে দন্ডিত হবেন। তিনি আরো জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া অনেকে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকছেন। রাস্তায় মোটর সাইকেলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
শহরে সোনালী মোটরসের মালিক আল-আমিন জানান, আগে দিনে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি হেলমেট বিক্রি করতেন। এখন প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০টি হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। তার দোকানে ৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের হেলমেট রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১০ হাজার টাকা মূল্যের হেলমেট ব্যবহার করলে বড় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, তারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ করছেন। আইন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।