বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিয়ে বিচ্ছেদের পর দুধ দিয়ে গোসল করলেন উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সহসম্পাদক অমিত রাজ ।
শনিবার বিকেলে উপজেলার বাশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুবলীগ নেতা নিজেই এই গোসলের ছবি পোষ্ট দেওয়ার পর সেটি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
দাম্পত্য কলহের জেরে শনিবার (২১ আগস্ট) স্ত্রীর সঙ্গে তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এ ঘটনার পর বিকেলে বাড়ি ফেরার পর অমিত রাজের বৃদ্ধ দাদি মনোয়ারা বেগম তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তুলেন।
অমিত রাজ মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অমিত রাজ চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের রাজাবাড়ি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে টুম্পাকে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছর পর তাদের ঘরে আরিয়ান রহমান চাঁদ নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
অমিত রাজ দাবি করেন, বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। তিনি বিষয়টি মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর মধ্যে তার স্ত্রী অন্য এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তিন মাস আগে তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে অমিত মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিছু দিন পর তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে উল্টো অমিত ও তার পরিবারের নামে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
অমিত আরও বলেন, বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করে। ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোক্তহার হোসেন একাধিকার তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সুরাহা না হওয়ায় শনিবার (২১ আগস্ট) আবারও টাঙ্গাইল ডিবি অফিসে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।
কিন্তু দু’জনের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় তিন লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। পরে অমিত রাজ আদালতের মাধ্যমে ওই টাকা তার সদ্য সাবেক স্ত্রীকে দেন। এরপর ছেলে আরিয়ান রহমান চাঁদকে তার কাছে বুঝে নেন।
এদিকে বিয়ে বিচ্ছেদের পর যুবলীগ নেতা অমিত রাজ বিকেলে বাড়ি ফিরলে তার বৃদ্ধা দাদি মনোয়ারা বেগম দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে নাতিকে ঘরে তোলেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা অমিত রাজ বলেন, প্রেমের সম্পর্ক করে ভালোবেসে বিয়ে করলেও সুখী হতে পারিনি। আল্লাহ আমাকে রহম করে আরেকটি মিন্নির হাত থেকে রক্ষা করেছেন।