বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ নানামুখি অপতৎপরতার পর অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর চালু হয়েছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহি বাঘাইহাট বাজার। সাজেক ইউনিয়নের অন্তর্গত বাঘাইহাট বাজারে এখন থেকে সপ্তাহের প্রতি রোববার বসবে সাপ্তাহিক হাট। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বাজারে আসা স্থানীয় মানুষের মধ্যে পরিণত হয়েছে মিলন মেলায়।
২০১০ সালে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার মধ্যদিয়ে সাজেকের ঐতিহ্যবাহী পুরানো এই বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন জারটি বন্ধ থাকায় সাজেক ইউনিয়নের স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের চরম অথনৈতিক সংকটে পড়ে। ফলে সাজেক ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি বাঘাইহাট বাজার পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয় হেডম্যান কার্বারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা নিজ উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়ে আবারও বাজারটি চালু রাখার উদ্যোগ গ্রহন করে। আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এখন থেকে প্রতি রোববার বাঘাইহাট বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন এলাকার ফরিয়া ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
এব্যাপারে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা (নয়ন) ও বাঘাইহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, আলোচনা সভার মাধ্যমে সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে বাজারটি পুনরায় চালু করা হলো। আর দীর্ঘ দিনের সমস্যা অবশেষে সমাধান হয়েছে। এতে করে এখানে বসবাসরত মানুষের কষ্টের লাঘব হয়েছে। পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে আবারও সম্প্রীতি সুবাতাস বইছে। তবে আগামীতে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহব্বান জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ২০১০ সালে বাঘাইহাটের পাহাড়ী-বাঙালিদের মধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে নয়টি গ্রামের ৪১টি উপজাতীয় ও ৫৭টি বাঙালি পরিবারের বাড়িঘর পুড়ে যায়। সে সময় উক্ত সংঘর্ষে উভয় সম্প্রদায়ের অন্তত অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হয়। এ ঘটনার পর পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়। উভয় মামলা অন্তত ২২৫জনকে আসামি করা হয়। পাহাড়িদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছিলেন জনৈক উত্তম কুমার চাকমা ও বাঙ্গালীদের পক্ষে মামলা করেছিলেন বাঘাইহাট এলাকার মোঃ দেলোয়ার হোসেন। সে সময় এই ঘটনার জন্য বাঙ্গালীদের দোষারোপ করে বাঘাইহাট বাজারটি বয়কট করতে স্থানীয়দের বাধ্য করে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত থাকা একটি আঞ্চলিক সংগঠন। আর সে সময় থেকে বন্ধ হয়ে যায় বাঘাইহাটের বাজার। এতে করে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার ব্যবসায়ীসহ লক্ষাধিক মানুষ ব্যাপক সংকটে পড়ে। চরমভাবে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় স্থানীয়দের মাঝে।