বাংলা হেডলাইনস: হামাসের রকেট হামলার জবাব দিতে গাজায় ইসরায়েলের আকাশ হামলায় অন্তত ১৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার ভোরে নজিরবিহীন এক হামলায় ঘুম ভেঙেছে ইসরায়েলিদের। তারপর থেকে আতঙ্ক আর অবিশ্বাসের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশটির প্রতিটি মানুষ। গাজা থেকে হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলায় সেখানে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং ৭৪০ জন আহত হয়েছেন।
হামাসের এই হামলার জবাব দিতে গাজায় ব্যাপক আকারে আকাশ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে গাজায় ১৭টি জঙ্গি আস্তানা এবং হামাসের চারটি অপারেশনাল হেডকোয়ার্টারে হামলা চালানোর কথা জানানো হয়।
আইডিএফ ঘোষণা দিয়েই গাজায় হামলা চালিয়েছে।
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, হামাস যোদ্ধারা তাদের কয়েকজন ‘সেনা এবং বেসামরিক নাগরিককে’ অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তবে ঠিক কতজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে সংখ্যা তারা জানায়নি।
হামাসের আকস্মিক মুহুর্মুহু রকেট হামলায় ইসরায়েল এখন ‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে’ আছে জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি এতে জয়ী হওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ শনিবার ভোরের এ হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার দাবি করে ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। হামলার বিষয়ে যেমন বিস্তারিত জানা যায়নি তেমনি নিহতরা নাগরিক কিংবা সেনা সদস্য কি না তা বলা হয়নি।
শনিবারের হামলার পর নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইসরায়েলের নাগরিকরা আমরা যুদ্ধে আছি- কোনো অপারেশন নয়, কোনো উস্কানি নয়, একটি যুদ্ধ। সকালে ইসরায়েল ও এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিস্ময়কর আক্রমণ চালায় হামাস। ভোর থেকেই আমরা এর মধ্যে আছি।”
বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
“আমি নিরাপত্তা প্রধানদের সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের জায়গাগুলো প্রথমে খুঁজে বের করি সেগুলো নিরাপদ করার নির্দেশনা দিয়েছি। একইসঙ্গে বড় পরিসরে রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করতে বলেছি।”
তিনি আরও শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিশোধমূলক যুদ্ধের হুঁশিয়ারিও দেন।
শনিবার গাজা ভূখণ্ড থেকে আকস্মিক ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট এসে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরিত হতে শুরু করলে আশ্চর্য হয়ে পড়ে ইসরায়েলের বাসিন্দারা। রকেট হামলার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। জেরুজালেমসহ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে সাইরেন বাজতে থাকে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় হামাসের বন্দুকধারীরা নজিরবিহীনভাবে গাজা থেকে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে। এটি ২০২১ সালের ১০ দিনের যুদ্ধের পর থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি।
বিষয়টি নিয়ে হামাসের উদ্দেশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “শত্রুদের এমন মূল্য দিতে হবে, যা তারা জানেও না। এই সময়ে আমি ইসরায়েলের সব নাগরিককে সেনাবাহিনীর নির্দেশাবলী এবং হোম কমান্ডের নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
“আমরা একটি যুদ্ধের মধ্যে আছি এবং আমরা এতে জিতব।”
হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দিয়েফ হামাসের সংবাদমাধ্যমে এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে সব ফিলিস্তিনিদের লড়াই করার ডাক দেন। তিনি জানান, ইসরায়েল লক্ষ্য করে ৫০০০ রকেট ছোড়া হয়েছে।
দিয়েফ বলেন, “পৃথিবীর শেষ দখলদারিত্ব অবসানে মহাযুদ্ধের দিন এটি।” সূত্র দেশি-বিদেশি মিডিয়া