বাংলা হেডলাইনস: সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা , উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে এবারের বিজয় দিবসে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়। জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৯তম বিজয় দিবস পালন করেছে।
সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমালা অর্পণ করে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন নীরবতা পালন করে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় সামরিক বাহিনীর বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে । সর্বস্তরের অগণিত জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, সিলেট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, রাঙ্গামাটি সহ দেশের অন্যান্য স্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বিজয় দিবস পালিত হয়। স্বাধীনতা-প্রিয় জনগণ গত রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক. ম. মোজাম্মেল হক প্রথম পর্যায়ে ১০,৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করায় খুশি। তাঁরা দ্রুত রাজাকারদের বিচার দাবি করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী হয়। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বর্ণিল কুচকাওয়াজ ও সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ডিসপ্লে প্রতক্ষ্য করেন।
রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক , পেশাজীবী সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালন করেছে।
জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।