শেখ নাদীর শাহ্, বাংলা হেডলাইনস, পাইকগাছা(খুলনা): জীবন যেখানে যেমন! ১৯ মাস আগে বরগুনার বেতাগী থেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন পারুল এঘাট-সেঘাট ঘুরে নোঙর ফেলেছিল খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছায়।
বেশ কিছুদিন ধরে জনপদের বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ালেও নিজ শরীরের বয়ে এনেছিল কারো সাময়ীক লালসার ফসল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চরম নড়বড়ে শরীরের কখনো উপজেলার সীমান্ত গ্রাম কাশিমনগর কখনো পাইকগাছা। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে ১৫-২০ কিলমিটার পথ পাড়ি দিত অসহায় পারুল। হয়তোবা প্রতি মূহুর্ত খুঁজে ফিরত নিজ ঠিকানা। সারাক্ষণ প্রলাপ বকলেও নিজের নাম বা ঠিকানা সম্পর্কে বলেনি কোন কথা! তাই হয়তো ফেরা হয়ে ওঠেনি তার।
একপর্যায়ে গত ২৯ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে পাইকগাছার রাজপথে অসহায় পারুল কন্যা সন্তান প্রসব করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়া তার ছবিসহ প্রকাশ করে পাগলী মা’ হলেও বাবা হয়নি কেউ।
তাৎক্ষণিক জনৈক পথচারীদের কল্যাণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় তার। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের মানবিক চিকিৎসা সেবায় দ্রুত সুস্থ্যতা পেলেও নবজাতককে মেনে নিতে পারেনি সে, উপরন্তু অবুঝের অসুস্থ্যতা। তাকে পাঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নিবিঢ় পর্যবেক্ষনে সুস্থ্য রয়েছে নবজাতক কন্যা শিশুটি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পেয়ে বরগুনা থেকে মেয়ের খোঁজে পাইকগাছায় চলে আসে পারুলের পিতা জন্মদাতা পিতা। সোমবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে তাকে তার পরিবারের মাধ্যমে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে পাগলীর মা হবার খবরে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে মা ও নবজাতকের সার্বিক খোঁজখবর নেন। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পারুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়। ক্রমশ তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
পারুলের পরবর্তী গন্তব্য পাবনা মানসিক হাসপাতাল। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আর্থিক সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে তাকে সেখানে ভর্তি করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সঞ্জয় কুমার বলেন, পারুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার কন্যা সন্তানটি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সে ভালো আছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মানবিক উদ্যোগকে উপজেলাবাসীর পক্ষে সাধুবাদ ও পরিবারের পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
যদিও সচেতন মহল মানসীক ভারসাম্যহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূ-দৃষ্টি কামনা করেছেন।