বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ‘নব্য ফ্যাসিবাদকে’ বিদায় জানাতে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন: জামায়াত আমির জামায়াত একটি রেজিমেন্টেড পলিটিক্যাল পার্টি: মির্জা ফখরুল সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে : জামায়াত আমির এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় সব শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র হবে: শিক্ষামন্ত্রী যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: মির্জা ফখরুল দিল্লিতে উপদেষ্টা জাহেদকে আটকানোর ঘটনায় ভারতীয় দূতকে তলব

মহাস্থানগড়ে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের স্থাপত্য নিদর্শনের সন্ধান (আপডেটেড)

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৬৯ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে পরবর্তী ১৪০০-১৫০০ শতকের স্থাপত্য ও অন্যান্য প্রত্ন নিদর্শন। এসব দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মহাস্থানগড় ওই সময়েও ঐহিত্য, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ছিল। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথখননকালে এসব নিদর্শনের সন্ধান মেলে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া গেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খননকাজ পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে খনন করছে। গত ৮ নভেম্বর থেকে মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটার দক্ষিণে খনন শুরু হয়। এ যৌথ খননে ফ্রান্সের কলিন লেফ্রাংকর নেতৃত্বে ছিলেন, এলবো ফ্রাংকোয়িস ও আতোয়ান। বাংলাদেশ দলের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার সাথে ছিলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মজিবুর রহমান, শাহজাদপুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, মহাস্থান জাদুঘরের কস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা, সিনিয়র ড্রাফসম্যান আফজাল হোসেন, আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সার্ভেয়ার মুর্শিদ কামাল ভূঁইয়া।

সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০১৭ সালে বৈরাগীর ভিটায় খননের পর প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন মেলে। এবার ওই খনন স্থানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে খনন করা হয়। খননকালে ৮টি কূপের সন্ধান মিলেছে। পাশাপাশি বেশকিছু মৃৎ পাত্র, মৃৎ পাত্রের ভগ্নাংশ, মাটির বড় একটি ডাবর (মটকা) পাওয়া গেছে। খনন স্থলে পাওয়া স্থাপত্য কাঠামো এবং উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র  দেখে খনন কাজে নিয়োজিতদের ধারণা, এসব খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে পরবর্তী ১৪০০-১৫০০ শতকের।

খনন দলের সদস্য শাহজাদপুর জাদুঘরের কস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ জানান, এবার খননে যেসব কূপের সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম। এটি ইটের গাঁথুনি বিশিষ্ট কূপ। এ কূপের প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত খনন করে তারা ৪৬ সারি ইটের গাঁথুনি পেয়েছেন। এছাড়া অন্য সাতটি পাতকূয়া হতে পারে। তিনি জানান, ইটের গাঁথুনি বিশিষ্ট কূপটি সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দি অর্থাৎ পাল আমলের। অন্যান্য কূপও সমসাময়িক সময়ের। সে হিসেবে প্রায় ১৩০০ বছর আগে এ অঞ্চলে ইটের গাঁথুনি বিশিষ্ট কূপ থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করেছেন।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, মহাস্থানগড়ের প্রাচীনত্ব বিশ্বস্বীকৃত। সে স্বীকৃতির নিদর্শনই প্রতি বছরের খননকাজে উন্মোচিত হচ্ছে। সেখানে যেসব প্রত্ন সামগ্রীর নমুনা মিলেছে তা প্রমাণ করে খ্রিষ্টের জন্মের পূর্বেও এ জনপদ ছিল সমৃদ্ধ। তিনি জানান, এবার খননে সেখানে পোড়ামাটির গুটিকা, মৃৎপাত্র, নকশাখচিত ইটসহ আরও অন্যান্য নিদর্শন মিলেছে। তিনি (রাজিয়া) বলেন, খনন কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে খননস্থলগুলো সংরক্ষণের জন্য মাটি ভরাট করে রাখা হবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা জানান, মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে যেসব স্থাপত্য ও অন্যান্য প্রত্ন নিদর্শন উন্মোচিত হয়েছে তা খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে পরবর্তী ১৪০০-১৫০০ শতকের।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com