বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় কালো ব্যাজ ধারন, কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আবদুল মান্নানের চার দফা জানাজা নামায শেষে সোমবার বাদ আসর গ্রামের বাড়ি সারিয়াকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মরহুমের শ্যালক মিনহাদুজ্জামান লীটন জানান, রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আবদুল মান্নান এমপি (৬৭) শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। দুপুরে তার লাশ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে মরহুম মান্নানের আমেরিকা প্রবাসী মেয়ে মালিহা মান্নান মৌ, জামাই ও নাতি দেশে ফিরবেন। তাঁর স্ত্রী শাহাদারা মান্নান সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এবং ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সজল আমেরিকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক।
সোমবার সকাল ৮টায় ঢাকার খামারাবাড়ি সংলগ্ন কৃষিবিদ ইন্সস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আব্দুল মান্নানের প্রথম ও বেলা ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর কফিন হেলিকপ্টরে নির্বাচনী এলাকার বগুড়ার সোনাতলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে আনা হবে। সেখানে তৃতীয় জানাজার পর সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নেয়া হবে। চতুর্থ জানাজা শেষে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বগুড়া আওয়ামী লীগের তিনদিনের শোক ঘোষণা: বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ শনিবার সকাল থেকে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে। দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, সাংগঠনিক পতাকা অর্ধনমিত, কালোব্যাজ ধারন, কোরআন খতম এবং সুবিধামত সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদালয়ে অধ্যায়নকালে মান্নান ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং বাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রকাশনা সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মরহুম আবদুল মান্নান ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদে দ্বিতীয় এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য হন। নির্বাচনী এলাকায় যমুনা ও বাঙালি
নদী ভাঙনরোধ, সড়ক এবং সেতু নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।