বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা বিএনপির সকল পদ থেকে সরে গেলেন। তিনি সংগঠনের মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ডাকযোগে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় শোকরানা এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই; পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি রাজনীতি ছাড়লেন। তিনি আরো বলেন, ২০ বছর বিএনপির রাজনীতি করলেন; আর ভার বহণ করতে পারছেন না। এখন পরিবারকে ও ব্যবসায় সময় দিবেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ
দেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বহুল আলোচিত ডাল কেলেংকারি এবং ত্রাণের কম্বল মজুদ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন। সে সময় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাবেন বলে গুঞ্জন চলছিল। শহরতলির ছিলিমপুরে চারতারকা হোটেল নাজ গার্ডেনসহ তার সকল স্থাবর ও অবস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির কথাও শোনা যায়। এসব বিক্রি করে তার বিদেশে সন্তান ও নাতিদের কাছে চলে যাবার কথা। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোহাম্মদ শোকরানার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, সংস্থার পরিচালক কাজী শফিকুল আলম
স্বাক্ষরিত নোটিশ শোকরানার বগুড়া সদরের ছিলিমপুরের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। নোটিশ পাবার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর-অবস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ শোকরানা বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে ছিলেন। । তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বগুড়ায় যুবলীগের রাজনীতি করেছেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপিতে যোগদানের আগে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে ছিলেন।এদিকে মোহাম্মদ শোকরানার বিএনপি ছাড়া প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, বিএনপি একটি বিশাল সমুদ্রের মত। এখন থেকে দু’একফোটা পানি সরে গেলে কিছুই হবেনা।