বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার গাবতলীতে ট্রাঙ্কে (টিনের বাক্স) এক বান্ডিল টাকা, তাবিজ ও পাথর রাখলে জ্বিন ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দিয়ে বাক্স ভরে দিবে। এমন প্রলোভনে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ায় জনগণ শাবলি বেগম (৩২) নামে এক ‘জ্বিনের বাদশাকে ‘ আটক করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের তেজপাড়া গ্রামে ওই ঘটনার সময় পুলিশ তাকে আটক ও কিছু নমুনা জব্দ করেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধু রঞ্জনা বেগম (৩০) গাবতলী থানায় প্রতারক শাবলি বেগম, তার স্বামী ও মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গাবতলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, গাবতলী উপজেলার তেজপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী রঞ্জনা বেগমের সাথে বগুড়া সদরের লাহিড়িপাড়া ইউনিয়নের কেরুলিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী শাবলি বেগমের সাথে গত আগস্টে পরিচয় হয়। শাবলি বেগম তাকে প্রলোভন দেন যে, ট্রাঙ্কে টাকা রাখলে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দিয়ে ট্রাঙ্ক ভরে যাবে। তার কথায় রঞ্জনা বেগম বিশ্বাস করেন। তিনি গত ১১ আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে শাবলিকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। শাবলি কাগজ কেটে ৫০০ টাকা বান্ডিল বানান ও সেটি কাপড়ে মুড়িয়ে রঞ্জনাকে দেন। এর সাথে একটি পাথর ও তাবিজও দেয়া হয়। ওই ‘টাকার বান্ডিল, পাথর ও তাবিজ একত্রে ট্রাঙ্কে রাখতে বলা হয়। জ্বিন এসে ১৫ দিনের মধ্যে বাক্স ভর্তি টাকা করে দিবে। আর এ কথা স্বামী ও পরিবারের কাউকে বলতে নিষেধ করা হয়। কেউ জানলে জ্বিন তার ক্ষতি করবে। এ ভয়ে রঞ্জনা ঘটনাটি কাউকে বলেননি।
এ দিকে নির্ধারিত সময় মঙ্গলবার রঞ্জনা বেগমের ট্রাঙ্কভর্তি টাকা দেখার কৌতুহল জাগে। তিনি ট্রাঙ্ক খুলে দেখেন , জ্বিন টাকা দেয়নি। তিনি কাপড়ের প্যাকেট খুললে ভিতরে কাগজের বান্ডিল, পাথর ও তাবিজ দেখতে পান। রঞ্জনা বেগম টাকার খোয়ানোর জন্য খুব কষ্ট পান। তিনি আরো টাকা দেবার প্রলোভনে শাবলি বেগমকে ফোনে ডেকে পাঠান। দুপুরে শাবলি তেজপাড়া গ্রামে রঞ্জনার বাড়িতে এলে তাকে কৌশলে আটক করা হয়। এ সময় শত শত গ্রামবাসী নারী জ্বিনের বাদশা শাবলিকে দেখতে ভিড় করেন।এরপর গ্রামবাসীরা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দিলে গাবতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাবলিকে উদ্ধার করে। প্রতারণার শিকার রঞ্জনা গাবতলী থানায় শাবলি, তার স্বামী আতাউর রহমান এবং মা ধলি বেগমের (স্বামী সাইফুল ইসলাম) বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করেছেন। গাবতলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, গ্রেফতার শাবলিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামী তার মা ও স্বামীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।