বাংলা হেডলাইনসঃ গত কয়েকদিনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ও সাংসদদের দলের কারাবন্দি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে ‘পরস্পর বিরোধী’ বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান একাদশতম সংসদে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন সাংসদ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে একজন সাংসদ রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংসদ হারুনুর রশীদ সহ দলের তিন জন সংসদ সদস্যের রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে হারুনের সাংবাদিকদের সাথে খালেদার জামিন, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মন্তব্য এবং পরের দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে সচিবালয়ে দেখা করা, বুধবারে দলের আর এক এমপি জিএম সিরাজের খালেদার সাথে দেখা করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খালেদার জামিনের জন্য সবিনয় আবেদন এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদের যথাক্রমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বক্তব্য দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার শুক্রবার বাংলা হেডলাইনসকে বলেন আন্দোলন ও আইনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির সংসদ সদস্যদের খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন নেতা-কর্মীদের মধ্যে ‘নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতা রফিক সিকদার বলেন দলের সাম্প্রতিক শীর্ষ নেতাদের ও সাংসদদের বক্তব্য নেতাকর্মীরা ‘কনফিউসনে’ পড়েছে।
মির্জা ফখরুল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে দাবি করেন খালেদা জিয়া কারও ‘অনুকম্পায়’মুক্ত হবেন না।
একই সুরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন খালেদা জিয়া মুক্তির জন্য কারও কাছে মাথা নত করবেন না।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাংলা হেডলাইনসকে বলেন খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তির ব্যাপারে নেতা কর্মীদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। সরকার বিভিন্নভাবে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য।
বিএনপির সাংসদ সাংসদ হারুনুর রশীদ শুক্রবার বাংলা হেডলাইনসকে বলেন আমরা যারা এমপি ঐক্যমত যে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি ম্যাডমের (খালেদা জিয়ার) মুক্তি।
তিনি বলেন যেহেতু তাদের (এমপিদের) সরকারের সাথে যোগাযোগের একটা স্পেস আছে, সংসদে কথাবার্তা হয়, তাই তারা বলেছে সরকার থেকে খালেদা জিয়ার জামিনে যেন কোনো বাঁধা না দেওয়া হয়।
হারুন বলেন তিনি ওবায়দুল কাদেরকে সেই অনুরোধ করেছেন।
বিএনপির এই সাংসদ বলেন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন ‘নো কম্প্রোমাইজ’ সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদের বক্তব্যে ‘যৌক্তিক’।
গত বছরেরে ৮ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়াকে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং ঐ দিনই তাঁকে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। খালেদাকে গত এপ্রিল মাসে তাঁর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয়। এখনও তিনি সেখনেই চিকিৎসাধীন আছেন।