প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে রবিবার র্যাব অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার ‘গডফাদার’ যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের রাজধানীতে কাকরাইলের অফিস ও রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে একটি ম্যাগজিন সহ একটি আগ্নেয় অস্ত্র, বিদেশি মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট ও ক্যাঙ্গারুর চামড়াসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করে।
বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ক্যাসিনো ‘কিং’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাটকে তার সহযোগী আরমানসহ রবিবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র্যাব গ্রেফতার করে। আটকের পর সম্রাটকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নিয়ে কাকরাইলে অফিসে অভিযান চালায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সম্রাটকে ৬ মাসের কারদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে র্যাব-১ এর অধিনায়ক ও মিডিয়া ও লিগ্যাল উইংএর পরিচালক লেঃ কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিঙে জানান আমরা এখান (সম্রাটের অফিস) থেকে প্রায় ১১৬০ পিস ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি বিদেশি ৭.৬৫ অস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড গুলি , একটি ম্যাগজিন, দুটি বন্য প্রাণীর চামড়া, দুটি ইলেকট্রিক শক দেবার মেশিন এবং দুটি লাঠি উদ্ধার করি।
তিনি বলেন বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়ার কারণে আদালত সম্রাটকে ৬ মাসের এবং আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়ার জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
র্যাবের অধিনায়ক বলেন ১৮ সেপ্টেম্বর আমরা ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করেছিলাম। আজ ১৯তম দিন ।এর মাঝে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম বারে বারে আসে। তাকে খোঁজার জন্য মাঠে অনেক গোয়েন্দা টিমের নজরদারী বাড়ানো হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় আমরা আজ ভোর বেলায় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার প্রধান সহযোগী আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আটক করি। আরমানকে আটকের পর তাকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার কাছে মদ পাওয়ায় তাকে ম্যাজিস্ট্রেট ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।
লেঃ কর্নেল সারওয়ার বলেন পরবর্তীতে আমরা সম্রাট ও আরমানকে ঢাকায় নিয়ে আসি । সম্রাটের দেওয়া তথ্য মতে আমরা আজ তার এই অফিসে অভিযান পরিচালনা করি।
দুপুর ১:৪০ মিনিটে, র্যাব সম্রাটকে নিয়ে তার কাকরাইলের অফিসে আসে এবং অভিযান চালায়।
এদিকে যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হারুনুর রশীদ আটকের পর সাংবাদিকদের জানায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।