বাংলা হেডলাইনসঃ আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া দাবি সহ ৮ দফা দাবিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস চ্যান্সেলর সাইফুল ইসলামের আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন দিলেও তারা সন্তুষ্ট নয়।
আন্দোলনকারীদের একটি দাবি ছিল ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার মধ্যে তাদের সামনে হাজির হওয়া। হাজির না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ৮-দফা দাবিতে অবস্থান নেয়। দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা , আবরার হত্যায় যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের আজীবনের জন্য ছাত্রত্ব বহিষ্কার করা এবং দ্রুত ট্রাইবুনালে বিচার করা।
বেঁধে দেওয়া সময় শেষে অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে সন্ধ্যা ছয়টার পরে তাঁর কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমানে হাজির হন। এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর তাঁরা ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন।
শিক্ষার্থীরা যখন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিচ্ছিলেন, তখন এক ছাত্রী সেখানে এসে বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর ওই কার্যালয়ের ভেতরে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীদের সামনে না আসায় তখন তারা ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ভাইস চ্যান্সেলর সাইফুল ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে তোমাদের দাবি মেনে নিচ্ছি।’
কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এতে সন্তুষ্ট নয় বলে জানায় তারা চায় তাদের প্রতিটি দাবির স্পষ্ট গ্যারান্টি দিতে হবে।
রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিল। তারা বলছিল দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে বুয়েটের তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল , নোয়াখালী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
গত সোমবার ভোর রাতে বুয়েটের তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ শেরে বাংলা হলে পাওয়া যায়। ময়না তদন্তে রিপোর্টে বলা হয় আবরারকে বাঁশ জাতীয় ভোঁতা কোনো কিছুর আঘতে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল সহ নয়জনকে সোমবার আটক করেছে। পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।