বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে হত্যার ৩য় দিন বুধবার বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, মশাল মিছিল, মৌন মিছিল, সমাবেশ, কালো পতাকা মিছিল, মুখে কালো পতাকা বেঁধে অবস্থান, মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বলেনের কর্মসূচি পালিত হয়।
বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও জায়গায় ছাত্র , শিক্ষক ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই সকল কর্মসূচী পালন করে। বিক্ষোভকারীরা আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করে দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে অবিলম্বে আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার, আজীবনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সহ তাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানায়। বুয়েট শিক্ষক সমিতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্ম প্রকাশ করে বুয়েটের ভিসির পদত্যাগ দাবি করে। শিক্ষক সমিতি বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি সহ শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দেয়। বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডঃ এ কে এম মাসুদ একাত্ম প্রকাশ করে এই ঘোষণা দেন।
এদিকে বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বুধবার কুষ্টিয়ায় আবরারের গ্রামের বাড়ি পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে গেলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে। সাইফুল ইসলাম আবরারের কবর জিয়ারত করেন।
গত সোমবার ভোর রাতে বুয়েটের তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ শেরে বাংলা হলে পাওয়া যায়। ময়না তদন্তে রিপোর্টে বলা হয় আবরারকে বাঁশ জাতীয় ভোঁতা কোনো কিছুর আঘতে হত্যা করা হয়।