অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে সোমবার সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ১২ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বুয়েটে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলো।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল । আবরার হত্যার প্রতিবাদে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে ৭ অক্টোবর ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে মারা হয়।
৭ অক্টোবর থেকেই বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে পড়ে এবং অক্টোবর ১৩ ও অক্টোবর ১৪ দুই দিন আন্দোলন শিথিল করে ভর্তিচ্ছুদের সুবিধার জন্য এবং আন্দোলনকারীদের দাবি বাস্তবায়ন দৃশ্যমান শুরু হওয়ায়।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সোমবার পরীক্ষা দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের জানান যে নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা দিয়ে তারা সন্তুষ্ট। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। কারও মতে প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে কারও মতে কঠিন হয়েছে।
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নিতে পারায় সোমবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন আমরাতো আগে থেকেই সুন্দরভাবে করেছি (পরীক্ষা নিয়েছি)। তারাও (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা) ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য কেননা শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হয়েছে বলেই তো নিতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস ওরা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা) আমদের বাকী কথাটুকুও শুনবে। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য যতটুকু পারছি চেষ্টা করছি।
উপাচার্য বলেন কয়েকটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বুয়েটে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সোমবার তাদের দাবির পক্ষে ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে। তারা পরীক্ষার্থীদের এবং তাদের অভিভাবকদের বোতলজাত খাবার পানি বিতরণ করে।
আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার তারা তাদের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করার কথা রয়েছে।