বাংলা হেডলাইনস: ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনী অবরোধ শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এর জবাবে ইরান তাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরগুলোতে পাল্টা হামলার কঠোর হুমকি দিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজের ওপর যে কোনও মার্কিন বিধিনিষেধ হবে অবৈধ এবং ‘জলদস্যুতা’র শামিল।
মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, “ইরানের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।”
গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
সোমবার বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হতেই তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।
তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার কোনও লক্ষণ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার জিএমটি ১৪:০০টা থেকে হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু হবে। ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের সব ইরানি বন্দরে আসা বা ছেড়ে যাওয়া যে কোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই অবারোধ প্রজোয্য হবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও তেলের বাজার
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত সব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। তেহরানের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রণ মেনে এবং নির্দিষ্ট ফি দিয়ে কেবল জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখন থেকে তিনি ইরানি জাহাজ এবং যারা ইরানকে টোল দিচ্ছে তাদের সব জাহাজও আটকে দেবেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যারা অবৈধভাবে ইরানকে টোল দেবে তারা সমুদ্রে নিরাপদ চলাচলের সুবিধা পাবে না।
“কোনও ইরানি যদি আমাদের বা কোনো শান্তিপূর্ণ জাহাজে গুলি চালায়, তবে তাদের নরকের আগুনে ভস্মীভূত করা হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ পেন্টাগন কর্মকর্তা ডানা স্ট্রোল বলেন, “ট্রাম্প একটি দ্রুত সমাধান চান। কিন্তু বাস্তবতা হল, এককভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই না-ও হতে পারে।” সূত্র : গণমাধ্যম