শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:

ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ১২ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার রাজধানর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১৩ টাকা ও এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে একটি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকা, আবার হালিতে ৬ টাকা। অন্যদিকে এক ডজন কিনলে দাম ১৪০ টাকা নিচ্ছে।

শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি আগের দরে বিক্রি হলেও আরও বেড়েছে পেপের দাম। অনেক দিন পরে কমেছে বেগুনের দর। কমেছে কক মুরগি ও গরুর মাংসের দর।

শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, “এক ডজন ডিমে পাইকারি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত শুক্রবারও এক ডজন ডিম বিক্রি করতাম ১৩০ টাকায়, গতকাল থেকে ১০ টাকা বাড়ছে, আজকে ১৪০ টাকা ডজন।’’

এক ডজন ডিম একই দরে বিক্রি করছেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মোহাম্মদ রুবেলও।

তিনি বলেন, “পরিচিত ক্রেতা হলে এক হালি ৪৮ টাকা বিক্রি করি। এক ডজন নিলে ১৪০ টাকা।’’

যাত্রাবাড়ী বাজারের দোকানি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০ দিন আগেও ১১০ টাকা ডজন বিক্রি করছি, এখন ১৪০ টাকায়।

খুচরা পর্যায়ে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম আড়াই টাকা বৃদ্ধির হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, “গরমের সময়ে ডিমের দাম কম থাকে। ‍মুরগির দামও কমে যায়। খামারিরা মুরগি দ্রুত বিক্রি করে দেন, নতুন মুরগি উঠানোর জন্য। গরমে বড় মুরগি মারা যায় বেশি, তাই খামারিরা এক লটে বিক্রি করে দেন।”

ডিমের বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা গেছে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শেষের দিকে। সেই সময়ে আমদানির অনুমতি দিলে কমে আসে বাজার দর।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ঢাকা মহানগরীর দৈনিক বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর এক হালি ডিম বিক্রি হয় ৫২ টাকা দরে। পরে আমদানির সুযোগ দিলে ডিমের দর কমে আসতে থাকে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডিমের দাম কমে প্রতি হালি ৪০ টাকায় নেমে আসে। সে বছর সেপ্টেম্বরে আরেক দফা দাম বাড়ে, তখন ভারত থেকে আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১ অক্টোবর ডিমের দর ফের প্রতি হালি ৫৬ টাকায় ওঠে।

পরের মাস অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কমে ৫২ টাকায় নামে সরকারের আমদানির সিদ্ধান্তে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আমদানিকৃত ডিম বাজারে আসতে শুরু করলে ধীরে ধীরে কমতে ‍শুরু করে দাম।

সেই থেকে প্রতি হালি ডিমের দাম ৪০ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল, বেশিরভাগ সময়ে ৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গেল এপ্রিলের ৭ তারিখেও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসটির শেষ দিনে প্রতি হালি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ওঠে ৪৫ টাকায়। এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি দরে।

শনির আখড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, পেঁপে ৮০- ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।

তার দাবি, পেঁপে আসছে কম। বড় আকারের হলে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

আগের সপ্তাহেও পেপে একই দরে বিক্রি হয়। তিন সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়।

এ বাজারে আগের দরে ঝিঙা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দের বিক্রি হয়।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গোল বেগুন ১০০ টাকা ও লম্বা বেগুনের দর ৮০ টাকা কেজি।

এক সপ্তাহ আগেও গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে।

এ বাজারে আগের সপ্তাহের দরে ঢেঁড়স বিক্রি হয়, ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। টমেটোর দামও দরে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় স্থির।

যাত্রবাড়ীতে করলা বিক্রি হয় আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪০ টাকা কমে, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে।

কাপ্তান বাজারে পটল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা দরে, আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা।

যাত্রাবাড়ীতে দেশি শসা হঠাৎ বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা কেজি। অন্যদিকে হাইব্রিড শসা এ বাজারে বিক্রি হয় আগের দরে, প্রতি কেজি ৭০ টাকায়।

এ বাজারে কাকরোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা। নতুন এ সবজির দর এক মাস আগে ছিল ১৮০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে তা কমে হয় ১২০ টাকা।

আগের সপ্তাহের মতো শুক্রবারও যাত্রাবাড়ী বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

তিন বাজারেই কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও এ দরে বিক্রি হয়েছে।

শনির আখড়া কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮২০ টাকা দরে।

এ বাজারে আগের সপ্তাহের মতো ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন মোহাম্মদ ইমন। তিনি বলেন, কক এক কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।

ব্রয়লার আগের সপ্তাহের দরে বিক্রি হলেও কক মুরগির দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০ টাকা।

শুক্রবার কয়েকটি মাছের দর আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দেখা যায়। সবচেয়ে ছোট আকারের কাচকি মাছ শনির আখাড়া বাজারে মোহাম্মদ জসিম বিক্রি করছেন ৬০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে ছিল ৫০০ টাকা।

অন্যদিকে এ বাজারে মলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়, আগের সপ্তাহে ছিল ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি শিং মাছ ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে শুক্রবার বিক্রি হয় ৪০০ টাকা কেজি।

শনি আখড়া বাজারে একই দরে বিক্রি হচ্ছে রুই ও তেলাপিয়া মাছ। দুই কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে এবং এক কেজি ওজনের হলে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

দেশি বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫০ টাকা কেজি।

এ বাজারে আগের দরে তেলাপিয়া ১২০ টাকা, ভাটা মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সরপুটি ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। পাঙ্গাসের দর ২০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে।

আগের দরে চাষের পাবদা ৩০০ টাকা ও দেশি পাবদা ৬০০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ বাজারে।

অবশ্য বেড়েছে আইড় মাছের দাম। প্রতি কেজি ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির কথা বলেছেন মোহাম্মদ জাকির। সূত্র: বিডিনিউজ

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com