বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ খ্যাতিমান বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রোগীদের মাঝে বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ গ্যাসের ট্যাবলেট রেনিটিডিন সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ট্যাবলেটে ক্যান্সারের উপাদান রয়েছে এটা ভেবে রোগীদের মাঝে তা খেতে অনিহা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাঝেও এ ট্যাবলেট নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখানে সরবরাহ করা রেনিটিডিন কি ধরনের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি তা জানতে চেয়ে বগুড়া অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) কাছে চিঠি দিয়েছে।
জানা গেছে, রেনিটিডিন জাতীয় সবগুলো ট্যাবলেটে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে এমন উপাদান পাওয়ায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের বাজারে এ ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও বগুড়া ২৫০ শয্যার সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রোগীদের মাঝে রেনিটিডিন সরবরাহ করা হয়। গ্যাসের এ ট্যাবলেটে ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে তাই রোগীরা এ ওষুধ খেতে অনিহা প্রকাশ করেন। কোন কোম্পানির রেনিটিডিন খাওয়া যাবে রোগীরা তাও বুঝতে চাইছেন না। এর প্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নূরুজ্জামান সরবরাহ করা রেনিটিডিন ব্যবহার ও বিতরণ সম্পর্কে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এ ট্যাবলেট ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি কী না তা জানতে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের কর্মরত সকলকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরবরাহ করা রেনিটিডিন ওষুধ কোয়ারেন্টাইন করে রাখার নির্দেশ দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে ইডিসিএলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৭–১৮ ও ২০১৮–২০১৯ অর্থ বছরে চাহিদা মোতাবেক রেনিটিডিন ১৫০ গ্রাম ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বিবেচনায় এ ট্যাবলেট যদি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের ভান্ডারে মজুদ থাকে তা ব্যবহার না করে ১০ দিনের মধ্যে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
বগুড়া জেলা ড্রাগ সুপার আহসান হাবীব জানিয়েছেন, ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ ভারতের সারাকা কোম্পানী লিমিটেডের কাঁচামাল ব্যবহার করতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডিসিএলের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, তারা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের সারাকা কোম্পানীর কাঁচামাল দিয়ে রেনিটিডিন উৎপাদন করেছেন। এখন তারা রেনিটিডিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান জানান, ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, তারা এসএমএস লাইফ সাইন ল্যাবরেটরির কাঁচামাল ব্যাবহার করেছে। তবে এখন তারা রেনিটিডিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সিদ্ধান্ত হলে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ পুনরায় রেনিটিডিন উৎপাদন শুরু করতে পারে। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে তাদের তৈরি অন্য ব্যাচের রেনিটিডিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে, বগুড়া ইডিসিএলের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। এখন হাসপাতলে ১৯.০৭.০৪৫ ব্যাচের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোন ব্যাচে কি ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোন উত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।