বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া পুলিশ করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগে চার বালু ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় বালু উত্তোলনের শ্যালো মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফুলবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ এরা চারজনসহ ২০ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরো ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছে। পরে এদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত বালু ব্যবসায়ীরা হলো বগুড়া সদরের রাজাপুর এলাকার রাসেল সরকার (৩০), হটিলাপুর পশ্চিমপাড়ার ফিরোজ মিয়া (৩০), ফুলবাড়ি সরকারপাড়ার নাহিদ সরকার (২২) ও মানিকচক এলাকার মো: রাকিব (২২)।
অভিযোগে জানা গেছে, প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলন নিয়ে কয়েকটি হত্যার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গভীর গর্তে পড়ে প্রাণহানীও হয়েছে। অধিকাংশ নম্বর বিহীন বালুর ট্রাক চলাচল করায় গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় পথচারীও মারা গেছে। শুধু তাই নয়; করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়াও আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িঘর ধসে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ও মেশিন পুড়িয়ে দিলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ ব্যবসা বন্ধ হয়নি।
শনিবার সকালে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ফুলবাড়ি এলাকায় করতোয়া নদীতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করেন। অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধাওয়া করে রাসেল, ফিরোজ, নাহিদ ও রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জব্দ করা শ্যালো মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফুলবাড়ি ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার ৪ জনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় ২০০০ সালের প্রাকৃতিক জলধারা সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারায় মামলা হয়েছে।