বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ ঘুষ নেবার সময় দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়েছেন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়–য়ামালা ইউনিয়ন কর্মকর্তা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুল হান্নান (৪৫)। দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম রবিবার দুপুরে তাকে ঘুষের ১৩ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় তার বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছিল। গাবতলী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা আকতার জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ভূমি অফিসের পিয়নরা লিখিত দিলে তহশিলদারকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করবেন।
বগুড়া দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গাবতলী উপজেলার জয়ভোগা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মানিক তার পৈতৃক ১৩ শতক জমির খাজনা (ভুমিকর) দিতে সম্প্রতি নাড়–য়ামালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। তখন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুল হান্নান হিসাব করে জানান, খাজনা ১৪৩ টাকা দিতে।এ খাজনা পরিশোধ করতে তার কাছে আরো ১৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। মতিউর রহমান মানিক নিরুপায় হয়ে গত ১৪ অক্টোবর ১০৬ নম্বর হটলাইনে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে অবহিত করেন। এরপর তিনি নির্দেশমত সেখানে লিখিত অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে দুদকের একটি টিম রবিবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ভুমি অফিসে ওৎপেতে থাকেন। ওই কর্মকর্তা মানিকের কাছে ১৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে পকেটে রাখেন এবং শুধু ১৪৩ টাকার রশিদ দেন। এ সময় হাতেনাতে ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা আবদুল হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। হান্নান বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরে ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বগুড়া শহরের মালতিনগর বৌ বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। দুদক কর্মকর্তা আরো জানান, তিনি বাদী হয়ে দুদক কার্যালয়ে আসামির বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৬১ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করবেন। এরপর তাকে গাবতলী থানায় সোপর্দ করা হবে।