বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে ছুটিতে এসে যশোর সেনানিবাসে কর্মরত দেলোয়ার হোসেন হৃদয় (৩০) নামে এক সেনা সদস্য স্ত্রী রুবিনা খাতুন (২৬) ও ছয় বছরের ছেলেসহ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের সন্ধান না পাওয়ায় হৃদয়ের ছোট ভাই রানা ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ওসি আজিম উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাদের সন্ধান জানতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সেনা সদস্য হৃদয় তার ইউনিটের সদস্য ও গ্রামে অনেকের কাছে অন্তত ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এ টাকাগুলো পরিশোধ করতে না পেরে তিনি আত্মগোপন করেছেন। ভাই রানা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, যশোর সেনানিবাসে কর্মরত সেনা সদস্য দেলোয়ার হোসেন হৃদয় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে। তিনি প্রায় এক যুগ আগে সেনাবাহিনীতে যোগদেন। গত ৬ অক্টোবর ১০ দিনের ছুটিতে যশোর সেনানিবাস থেকে বাড়িতে আসেন। গত ১০ অক্টোবর দুপুরে স্ত্রী ও ছেলে নিয়ে আড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া খিয়ারপাড়া গ্রামে শ্বশুড়বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন হৃদয়ের শ্বশুড় রবিউল ইসলাম জামাই বাড়িতে এসে জামা কাপড় ও একটি টিভিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভ্যান বোঝাই করে নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়ে যান। এরপর হৃদয়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গত ১৮ অক্টোবর যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনা সদস্যরা বাড়িতে এসে হৃদয়ের খোঁজ করেন। তারা হৃদয়কে বের করে দিতে
বলেন। তখন শ্বশুড়বাড়িতে খোঁজ করেও হৃদয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে হৃদয় স্ত্রী ও ছেলেসহ নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় ইউনিয়নের সদস্য আব্দুর রশিদ টুকু জানান, হৃদয় ঋণগ্রস্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। হৃদয়ের একটি গরুর খামার ছিল। খুরা রোগে একটি গরু মারা গেলে অপর ৭-৮টি গরু কম দামে বিক্রি করে দেন। এতে করে অনেক টাকা ক্ষতি হয়। তার ধারনা, ঋণের টাকার জন্য হৃদয় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেন।এ বিষয়ে হৃদয়ের শ্বাশুড়ি বিলকিছ বেগম জানান, ১০ অক্টোবর দুপুরে মেয়ে ওজামাই তার বাড়িতে আসেন এবং ওইদিন সন্ধায় খাওয়া-দাওয়া শেষে আবার তারা বাড়িতে চলে যান। ফোন বন্ধ থাকায় মেয়ে-জামাইয়ের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছেনা। মেয়ে-জামাইয়ের খোঁজ না পেয়ে তারাও থানায় জিডি করেছেন। তাছাড়া মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি থেকে জামা কাপড় এলইডি টিভি নিয়ে আসা হয়নি। শুধুমাত্র ভ্যানে করে খড় নিয়ে আসা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, স্ত্রী ও সন্তানসহ নিখোঁজ সেনা সদস্য হৃদয়কে উদ্ধার করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।