শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইরানের নৌশক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি: স্বীকার করল পেন্টাগন সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর

মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের দুটি কমিটির অনুমোদনে নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্তিতে

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৭১৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সাত দিনের ব্যবধানে জাতীয় শ্রমিক লীগ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার দুটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েছে মানিকগঞ্জ শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিদ্যমান পুর্নগঠিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও আরেকটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

জাতীয় শ্রমিক লীগের প্যাডে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত মানিকগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদনের কাগজপত্রে দেখা যায়, ১৫ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি ও কাজী মতিউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় শ্রমিক লীগ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কার্যালয়ে গিয়ে বাবুল সরকারের হাতে ওই অনুমোদনের কপি তুলে দেন। এসময় সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে, ৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি মো. আব্দুল জলিলকে সভাপতি এবং মো. হানিফ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১-সদস্যবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ইসলাম সাক্ষরিত ওই কমিটি ঘোষণা করেন। 

৭ দিনের ব্যবধানে দুটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ বলেন, ৭ অক্টোবর যে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয় তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলীর দ্বন্দ্বের কারণে দুটি কমিটি জমা পড়ে। হানিফ আলীর কমিটিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ফটো সুপারিশ করেন। আর বাবুল সরকারের কমিটিতে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন সুপারিশ করেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বাবুল সরকারের কমিটিকে অনুমোদন দেয়া হয়। 

ন্যাম ভবনে গিয়ে এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি ও মমতাজ বেগম এমপি’র উপস্থিতিতে অনুমোদিত কমিটি হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বলেন, তিনি জাতীয় শ্রমিকলীগের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে সেখানে গিয়ে তাদেরকে পেয়েছেন। 

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৭ তারিখে ঘোষিত কমিটিতে তার স্বাক্ষরের কথা তিনি অস্বীকার করেন। আর ন্যাম ভবনে গিয়ে অনুমোদিত কমিটি হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন তিনি সেখানে যাননি এবং সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে তাকে কেউ জানায়নি।  

৭ অক্টোবর ঘোষিত জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ আলী বলেন, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি অনুমোদন দেন। কিন্তু দীর্ঘ ২২ মাস অনুপস্থিত থাকা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনাসাপেক্ষে জেলা কমিটির সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫৫ জনের উপস্থিতি ও স্বাক্ষরে বাবুল সরকারকে বহিস্কার করা হয়। ৭ অক্টোবর আব্দুল জলিলকে সভাপতি করে কমিটি পুর্নগঠন করা হয়। 

কিন্তু ৭দিনের মাথায়, বাবুল সরকারকে সভাপতি করে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দলীয় কর্মকান্ড। এই অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবীতে ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন করেছেন তিনি। 

মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকলীগকে কলংকমুক্ত এবং আরো গতিশীল করতে ৭ অক্টোবর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে দুষ্টচক্রের প্রভাবে একটি বৈধ কমিটিকে বাদ রেখে ৭দিনের মাথায় আরেকটি কমিটির অনুমোদন দিয়ে দলের ক্ষতি করা হয়েছে। এব্যাপারে তিনি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  

এব্যাপারে ১৫ অক্টোবর ঘোষিত কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার বলেন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলীর সাথে দ্বন্দ্বের কারণে জেলা কমিটির মেয়াদ থাকা সত্বেও  দুইজনেই আলাদা আলাদা কমিটি কেন্দ্রের কাছে জমা দিই। দুই কমিটিতেই নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করেন। গত ১৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি তার ও হানিফ  আলীর অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় তার দাখিলকৃত কমিটি অনুমোদন দেন। এই কমিটিকে যারা অবৈধ বলেন তারা আসলে দল করেন কি না সন্দেহ আছে। প্রতিহত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন পেশি শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করা যায় না। সময় এলেই এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে  জেলা শ্রমিক লীগ একাংশ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে বাবুল সরকার ও মতিউর রহমানের কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা  দিয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com