বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েছে সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান (৩৫)। রোববার বিকালে অস্থায়ী আনসার সদস্যদের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেবার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ড্রয়ারে হিসাব ছাড়া আরো ২৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয়ে মামলা করেছেন।
দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান ও অন্যরা জানান, শহরের মালতিনগরে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে গত ১৬ অক্টোবর অস্থায়ী আনসার সদস্যদের মিটিং ছিল। সে মিটিং-এ ১২ জন আনসার সদস্য উপস্থিত হতে পারেননি। এ জন্য সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান তাদের শোকজ করেন। চাকরি বাঁচাতে তারা (আনসার) কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সাথে দেখা করলে তিনি তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ১২ আনসার সদস্যদের অনুরোধে তিনি ২০ হাজার টাকায় বিনিময়ে তাদের ক্ষমা করে দেবার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শাকিল আল মামুন নামে এক আনসার সদস্য এ ব্যাপারে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। দুদক কর্মকর্তারা তদন্ত করে এর সত্যতা পেলে আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে ধরার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুসারে শাকিল আল মামুনসহ ১২ আনসার সদস্য রোববার বিকালে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে যান। এর আগেই দুদক কর্মকর্তারা সেখানে ওৎপেতে থাকেন। আনসার সদস্যরা সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে ঘুষের ২০ হাজার টাকা দেবার সময় দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।
উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান আরো জানান, ওই সময় আনিসুর রহমানের টেবিলের ড্রয়ারে আরো ২৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া যায়। তিনি ওই টাকা সম্পর্কে কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। গ্রেফতারের পর তাকে দুদক কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ব্যাপারে সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয়ে দন্ডবিধির ১৬১ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করেছেন।
এর আগে দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম গত ২০ অক্টোবর দুপুরে ১৩ হাজার টাকা ঘুষ নেবার সময় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়–য়ামালা ইউনিয়ন ভুমি উপ সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুল হান্নানকে (৪৫) গ্রেফতার করেন।