বাংলা হেডলাইনসঃ নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে এক লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) পূনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ।
মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫ম বৈঠকে এই বিষয়টি জানানো হয়।
বৈঠকে ভাসানচর আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এ প্রকল্পের উপর একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়, প্রেস রিলিজে জানানো হয়।
সংসদের গণসংযোগ-১ এর উপপরিচালক মোঃ নূরুল হুদা স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজ উল্লেখ করেছে যে বৈঠকে জানানো হয় যে, প্রকল্পটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচর নামক স্থানে ০১ লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির জন্য জিওবি খাত থেকে বরাদ্দতকৃত ২৩১২১৫.৩১ লক্ষ টাকার মধ্যে ২২৬৫৯০.৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ৪৬২৪.৩১ লক্ষ টাকা কন্টিজেন্সির জন্য অব্যয়িত রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের পূনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে , প্রেস রিলিজটিতে জানানো হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য মোঃ মোতাহার হোসেন, মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ মহিববুর রহমান এবং নাহিদ ইজাহার খান অংশগ্রহণ করেন।
আজকের বৈঠকে ৪র্থ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের লেঃ জেনারেল মোঃ সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ,সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ লক্ষ মিয়ানমার নারী, পরুষ ও শিশু সেই দেশটির সামরিক বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সহ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়ন করে দেওয়ার নিষ্ঠুর ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ২০১৭ সালে সিংহভাগ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।