শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইরানের নৌশক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি: স্বীকার করল পেন্টাগন সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর

ইলিশ শিকার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা খুশি, মাছও মিলছে পর্যাপ্ত

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৭৫ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনসঃ ইলিশ মাছ ধরার ২২ দিনের  সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এবং আশানুরুপ ইলিশ পাওয়ায় জেলেরা খুব খুশি।

সরকার মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজননের মৌসুমে গত অক্টোবর ৮ মাঝ রাত থেকে অক্টোবর ৩০ মাঝ রাত পর্যন্ত ইলিশ ধরা ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছিল।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর পরই জেলেরা ইলিশ মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়ে। চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ শিকার করে জেলেরা জানায় ,তারা এবার প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মাছ পেয়ে খুবই আনন্দিত ।ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীদের মতে আভিযানের পর অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের পরিমাণ বেশি।

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অভিযান চালিয়ে অনেক জেলেকে আটক করে জেল জরিমানা সহ বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরার কারেন্ট জাল ধবংস করে ও ইলিশ জব্দ করে।

বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল প্রতিনিধি প্রতিবেদনে লিখেছেন ইলিশ ধরার ২২দিনের নিষেধাজ্ঞায় টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে ৩৩জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়টাতে ধার-দেনা করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনভাবে দিন কাটিয়েছেন বলে একাধিক জেলের দাবি। এই ২২দিন অপেক্ষার পর জীবিকার তাগিদে আবার যমুনা নদীতে নেমেছেন জেলেরা। এই ২২দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭১হাজার দুই’শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ৫০জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৪৯০ কেজি ইলিশ ও ৫লাখ ২০৯ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।

জানা যায়, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের আওতায় ছিলেন টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে যমুনা নদীর তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, নাগরপুর, ভূয়াপুর ও গোপালপুর উপজেলার প্রায় ৩ হাজার জেলে। সরকার নির্ধারিত ২০কেজি করে চাউল সকল জেলেদের দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় অর্ধেক জেলে সরকারের অনুদান পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের দেওয়া এই অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি জানান জেলেরা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঠান্ডু শিকদার বলেন, ‘মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের অভাব-অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে। অভাবের কারণে কিছু সংখ্যক জেলেরা নিষিদ্ধ সময়েও নদীতে মাছ ধরতে যায়। এ কারণে অনেক জেলে সাজাও খেটেছেন। এ ছাড়াও অনেক জেলেকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। একমাত্র উপার্জন ব্যক্তি কারাবন্দি হওয়ায় তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ২০ কেজি করে চাউল অনুদান দিয়েছেন। আবার অনেক জেলে সরকারের এই অনুদান পায়নি। এই ২০ কেজি চাউলে তো আর ৫-৭জন সদস্যের একটি পরিবার চলতে পারে না। একটি সংসারে এক মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এজন্য অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় তিন হাজার জেলে ছিল। আমরা সকল জেলের অনুদানের জন্য তালিকা পাঠিয়েছিলাম কিন্তু ১৫০৬ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে ৩০ মেট্টিকটন চাউল অনুদান এসেছিল। অনুদান কম আসায় আমরা সকল জেলেকে অনুদান দিতে পারিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৩জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ৫০জনজেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও ৭১হাজার দুই’শ টাকা জরিমানা ও ৪৯০ কেজি ইলিশ এবং ৫লাখ ২০৯ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।জব্দকৃত ইলিশ জেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এ অভিযান সফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানায় মানিকগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০১৯ গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২দিনে মোট ৫০৮ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৩০৭ জন জেলেকে জেল দেয়া হয়। আর জরিমানা করা হয় ৫.৬৭৬ লক্ষ টাকা। একই সময়ে ৩.৫৪৭ মেঃটন ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছ জেলার বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও জেলখানায় বিতরণ করা হয়।৫২.৯২ লক্ষ মিটার জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ২২ দিনে মোট ২১৮টি অভিযান পরিচালনা, ১২৫টি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে শাস্তি প্রদান এবং ৩১৯টি মামলা করা হয় ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অক্টোবর মাসের মাসিক সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান এসব তথ্য দেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com