বাংলা হেডলাইনসঃ মিয়ানমার থেকে হত্যা, নির্যাতন, যৌন-নির্যাতন, ঘরবাড়ি অগ্নিসংযোগর মুখে বাংলাদেশের মূলত কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেওয়া সে দেশের নাগরিকরা (রোহিঙ্গা) নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে এক লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) পূনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে গত ২৯ অক্টোবর একাদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫ম বৈঠকে এই বিষয়টি জানানো হয়।
সংসদের গণসংযোগ-১ এর উপপরিচালক মোঃ নূরুল হুদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে বৈঠকে জানানো হয় যে, এই ব্যাপারে নেওয়া প্রকল্পটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচর নামক স্থানে ০১ লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির জন্য জিওবি খাত থেকে বরাদ্দতকৃত ২৩১২১৫.৩১ লক্ষ টাকার মধ্যে ২২৬৫৯০.৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ৪৬২৪.৩১ লক্ষ টাকা কন্টিজেন্সির জন্য অব্যয়িত রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে এবং ১ লক্ষ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের পূনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে , সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উখিয়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩, ৪ ইনচার্জ, মোঃ মাহফুজুর রহমান সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩, ৪ থেকে ৪৯ টি পরিবারের ২৩১ জন সদস্য তারা (ভাসানচরে) যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেছেন, এখন শুস্ক মৌসুম, শীতের মৌসুম এই সময়ে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা অন্তত একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক রোহিঙ্গা পরিবারকে ওখানে (ভাসানচরে) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
জানা গেছে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ লক্ষ মিয়ানমার নারী, পরুষ ও শিশু সেই দেশটির সামরিক বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সহ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়ন করে দেওয়ার নিষ্ঠুর ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ২০১৭ সালে সিংহভাগ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।