বাংলা হেডলাইনসঃ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান , সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার নিউইয়র্কে মারা যান।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বাংলা হেডলাইনসকে জানান যে আজ (সোমবার) বাংলাদেশ সময় দুপর সোয়া ২ টায় সাদেক হোসেন খোকা মারা যান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকা দুরাগ্য ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১৪ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকা চিকিতসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন বাংলা হেডলাইনসকে রাত সাড়ে ১১ টায় বলেন যে দলীয়ভাবে এখনও তাদের কিছু জানানো হয়নি সাদেক হোসেন খোকা ভাইয়ের মরদেহ কবে ঢাকায় আনা হবে এবং কবে, কখন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর (খোকা) জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন খোকার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সাদেক হোসেন খোকার জন্ম ১৯৫২ সালের ১২ মে মুন্সিগঞ্জে সৈয়দপুরে। বাবা-মায়ের সাথে শিশুকাল থেকেই বসবাস পুরানো ঢাকার গোপীবাগে। বাবা এম এ করীম প্রকৌশলী ছিলেন। শিশুকাল থেকেই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সাদেক হোসেন খোকার জীবন। একাত্তরের স্বাধীনতার উত্তাল সংগ্রামের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে মা-বাবাকে না জানিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যান বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে।
সাদেক হোসেন খোকারেখে গেছেন স্ত্রী ইসমত হোসেন, একমাত্র মেয়ে সারিকা সাদেক এবং দুই ছেলে ইসরাক হোসেন ও ইসফাক হোসেনকে।
জানা গেছে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনো বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডিগ্র্রি লাভ করেন। ছাত্র জীবনে রাজনীতির শুরুটা বাম রাজনীতি দিয়ে। ইউনাইটেড পিপলস লীগ(ইউপিপি-কাজী জাফর) এবং পরে ন্যাপ ভাসানীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন সাদেক হোসেন খোকা
তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব পেয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে ছিলেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। প্রথম গোপীবাপ-কোতয়ালীর ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি জনপ্রতিনিধি হন। এই ধারাবাহিকতায় তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিএনপির ঢাকা মহানগরের সভাপতির পাশাপাশি সাদেক হোসেন খোকা দলের নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার দুই সরকারের মন্ত্রী ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েই ১৯৯১ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ২০০১ সালে মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।