বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া ও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ভাটাগুলো জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনাঞ্চল ও পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত। ভাটাগুলোতে জমির টপসয়েল ও খড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিকাংশ ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নেই। এসব ভাটার কারণে পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে জেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ২১৯টি। এর মধ্যে মাত্র ৭৪টির লাইসেন্স রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে ভাটার সংখ্যা আরো বেশি। এর মধ্যে ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ভাটা রয়েছে প্রায় ৪০টি। অধিকাংশরই পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নেই। শুধু মথুরাপুর ইউনিয়নে রয়েছে ১৫টি ভাটা। যার ৮টি স্থাপন করা হয়েছে কুঁড়িগাঁতি গ্রামে। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গত ২-৩ বছর ধরে কুড়িগাঁতি গ্রামে প্রগতি ব্রিকস, বস ব্রিকস, দিগন্ত ব্রিকস, বন্ধু ব্রিকস, ফাইভ স্টার ব্রিকস, আদর্শ ব্রিকস, একতা ব্রিকস ও গ্রামীণ ব্রিকস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩ এ বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা নির্মাণ, ইট প্রস্তুতে কৃষি জমি বা পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার করতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া খাল, পুকুর, নদীরপাড় বা চরাঞ্চল কেটে মাটি সংগ্রহ করতে পারবে না। এলজিইডির সড়ক ইট ও মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোন ধরনের কাঠ পোড়ানো যাবে না। এমনকি মান সম্পন্ন কয়লা পোড়াতে হবে। অথচ নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই কৃষি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ভাটাগুলো। ভাটায় পরিবেশ বান্ধব চুল্লি নেই। এসব ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া লোকালয়ে চলে আসছে। ভাটায় কয়লার পরিবর্তে যানবাহনের টায়ার ও জ্বালানী কাঠ। কাঁচামাল হিসেবে আশপাশের কৃষি জমির টপ সয়েল ব্যবহার হচ্ছে। ভাটাগুলোতে মাটি পরিবহণের ট্রাক্টরে গ্রামীণ সড়কগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ট্রাক্টর চলাচলের সময় এর ধুলায় জনগণের চরম সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ সেলিম বলেন, কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। তার ইউনিয়নে অনেক বেশি ইটভাটা থাকায় ও জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করায় কৃষি জমির ফলন কমে যাচ্ছে। এতে কৃষকসহ সাধারন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ উপজেলায় অধিকাংশ ইটভাটা নিয়ম নীতি মেনে নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে তাদেরকে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের জন্য কৃষি অধিদফতর থেকে কোন প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হয়নি। ইটভাটার কারণে কৃষি জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
কুড়িগাঁতি গ্রামের প্রগতি ব্রিকস ইটভাটার মালিক মিজানুর রহমান ও বস ব্রিকস ভাটার মালিক কামরুল ইসলাম প্রমূখ জানান, পবিবেশ অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কেউই ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাননি। এসব ভাটা
কিভাবে চলছে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রতিটি ইটভাটা মালিক বছরে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে দিয়ে প্রশাসনসহ সব কিছু ম্যানেজ করা হয়।
ধুনট উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হায়দার আলী হিন্দোল জানান, খাতা-কলমে এই উপজেলায় ২৪/২৫টি ইটভাটা রয়েছে। অনেকেই নতুন হওয়ায় হয়তো পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পায়নি। ইটভাটা মালিকদের থেকে বার্ষিক টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাটা মালিকরা কিছু টাকা প্রশাসনকে দিয়ে থাকেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র সাপেক্ষে জেলা প্রশাসন লাইসেন্স দিয়ে থাকেন। জেলা প্রশাসক রিপোর্ট চাইলে তদন্ত করে তা দেয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেউ অনুমতি নিতে আসেনি। প্রশাসনের নামে ভাটা
মালিকদের থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ টাকা আদায় করে থাকলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া উপজেলার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।