বাংলা হেডলাইনসঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেন যে বিশ্ব ব্যাংকের আপত্তি উপেক্ষা করে তাঁর সরকার দেশের কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন ‘আমাদের কৃষিখাতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। আপনারা জানেন যে ভর্তুকি দিতে গেলেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আপত্তি জানায়। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের পূর্বে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এখানকার প্রতিনিধি আমার কাছে এসেছিল। সেখানে অনেকগুলো তাদের (ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের) বক্তব্য, বলেছিল কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। আমি শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমেরিকা কি কৃষকদের প্রাইস সাপোর্ট দেওয়া বন্ধ করবে? ইউরোপ কি তাদের কৃষকদের প্রাইস সাপোর্ট দেওয়া বন্ধ করবে? তারাতো বন্ধ করবে না। আমরা কেন করবো?।‘
প্রধানমন্ত্রী বলেন তখন বলল আমরা (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) টাকা দিতে পারবো না। তখন আমি বললাম আপনাদের টাকা লাগবে না। আমি যদি সরকার গঠন করতে পারি নিজের টাকায় আমার কৃষকদের ভর্তুকি দেব। আজকে কিন্তু আমরা সেই ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন গত ১১ বছরে আমরা কৃষিখাতে মোট ৬৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছি। সেই সাথে সাথে আমাদের কৃষির বাজেট যখন আমরা ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের হিসাব নেই তখন কৃষি বাজেট ছিল ৭,৯২৪.৫৭ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ সালের বাজেটে আমরা কৃষিখাতে দিয়েছি ১৪,০৫৩ কোটি টাকা।
তিনি বলেন আমরা আমাদের কৃষিতে প্রণোদনা, পুনর্বাসন আমরা চালু করেছি। ১,০২৭ কোটি টাকা আমরা প্রণোদনা দিচ্ছি যার মাধ্যমে ৭৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৬ জন কৃষক উপকৃত হচ্ছে। তাছাড়া ২ কোটি ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষককে আমরা কৃষি উপকরন কার্ড দিচ্ছি। এই উপকরণ কার্ড তাদের হাতে থাকে। তাদের শেখ হাসিনা বলেন আমরা যে প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেই সেই টাকাটা সরাসরি প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। ঐ কার্ড দোকানে গিয়ে দেখালে স্বল্প মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।
তিনি বলেন কৃষকের টাকা বিতরণে যাতে অনিয়ম না হয় সেজন্যে আমরা সারা বাংলাদেশে কৃষক যাতে ১০ টাকায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।আজকে এক কোটি এক লাখ ত্রিশ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে । কৃষকরা নিজেরা বসে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁর সরকার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে এখন সকলের পুষ্টি নিশ্চিত করা জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন সরকার উদ্বৃত্ত খাদ্য বাজারজাত করা এবং রপ্তনীর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
হাসিনা বলেন যেখানে সেখানে ইন্ডাস্ট্রি করা যাবে না কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ১০০ টি ইকোনোমিক জোন করা হবে ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন আমাদের সবসময় লক্ষ্য যে আমরা কিভাবে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করবো। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৮ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।