বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে শিক্ষার্থী না থাকলেও শুধুমাত্র জাতীয়করণের লোভে ভুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসিই) অংশ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনটি নামসর্বস্ব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এ অভিযোগে ওইসব মাদ্রাসার ২৪ ভুয়া পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।
গত রোববার পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই ছাতিয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া তিনটি এবতেদায়ি মাদ্রাসার ২৪ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন, ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান। এ বিষয়ে সত্যতা মিললে মঙ্গলবার তিনি ওই দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়া গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ১৫জন, রামপুরা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৩জন ও রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬জন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করেন। এরা সকলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
এদিকে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অভিযোগে গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসেন, রামপুরা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাবকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসেন বলেন, এসব শিক্ষার্থী তথ্য গোপন করে পিইসিই পরীক্ষায় ফরম পুরন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়টি তার জানা ছিলনা। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিস্কারের পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, তিনটি মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও তারা বহিরাগত ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে প্রাথমিক ও এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ কারণে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের ২৪জন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ভুয়া শিক্ষার্থীদিয়ে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংগ্রহন করায় তিনটি মাদ্রাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।